রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং চিকিত্সা দিতে অস্বীকৃতির ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষানবিস (ইন্টার্ন) চিকিত্সকদের শিক্ষানবিস কাল শনিবার শেষ হয়েছে। মেয়াদ শেষের দিনই কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিত্সক এফসিপিএস ভর্তির কথা বলে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে সনদ চান; কিন্তু পরিচালক সনদ দেননি। এর আগে রাজশাহীর সাংবাদিকরা শনিবার নগরীতে মানববন্ধন করে অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিত্সকদের সনদ না দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
সূত্র মতে, রামেক হাসপাতালে এক বছরের শিক্ষানবিস দায়িত্ব পালনের সময় ৪৯তম ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিত্সকরা ৪ বার ধর্মঘট ডেকে রোগীদের চরম দুর্ভোগে ফেলেন। সর্বশেষ তারা গত ২০ এপ্রিল সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান ও ৬ মে স্থানীয় একজন ফটো-সাংবাদিককে চিকিত্সা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি রুলও জারি করে।
জানা যায়, শনিবার ৪৯তম ব্যাচের ১১৫ শিক্ষার্থীর শিক্ষানবিস কাল শেষ হয়। তাদের কয়েকজন পরিচালকের কাছে সনদের জন্য ধরনা দেন; কিন্তু পরিচালক তাদের সনদ দেননি। এ বিষয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালক আ.স.ম বরকতুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, এফসিপিএস পরীক্ষার ফরম পূরণের কথা বলে কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিত্সক শনিবার পরিচালকের কাছে সনদ চায়; কিন্তু পরিচালক তাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। হাইকোর্টের রুলের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিককে চিকিত্সা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জবাব দেয়া হবে।
তদন্ত শুরু : রাজশাহী মেডি-ক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানীয় সাংবাদিক গুলবার আলী জুয়েলকে চিকিত্সা না দেয়ার ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব কমিটির তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে কমিটির প্রধান প্রফেসর ডা. একরামুল বারীর নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত টিম বাড়িতে গিয়ে গুলবার আলী জুয়েল ও তার স্ত্রী ফৌজিয়া শাহনাজের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
ডা. একরামুল বারী বলেন, জুয়েল ও তার স্ত্রীর সাক্ষ্যে যাদের নাম এসেছে তাদের সাক্ষ্য নিয়ে ওই শিক্ষানবিস চিকিত্সককে শনাক্ত করে তারও সাক্ষ্য নেয়া হবে। এছাড়া জুয়েল যে ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন, সেই ওয়ার্ড সংশ্লিষ্টদেরও সাক্ষ্য গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে স্থানীয় দৈনিক নতুন প্রভাতের ফটোসাংবাদিক গুলবার আলী জুয়েলকে চিকিত্সা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলেন শিক্ষানবিস চিকিত্সকরা। এ ঘটনায় শিক্ষানবিস চিকিত্সকদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আদালতের রুলের চিঠি পাওয়ার পর শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রফেসর ডা. একরামুল বারীকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে ১৩ মের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
