গত ৭ এপ্রিল শুরু হয়েছিল ভারতের লোকসভা নির্বাচনের নয় পর্বের ‘ভোটযুদ্ধ’। আট পর্বের ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে শেষ পর্বের ভোটগ্রহণ। আজ তিন রাজ্যের ৪১টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। এগুলো হচ্ছে -উত্তর প্রদেশের ১৮টি, পশ্চিমবঙ্গের ১৭টি ও বিহারের ৬টি। তবে ভারতের মানুষ তাকিয়ে আছে বেনারস আসনের দিকে। এই নির্বাচনী এলাকাটি ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত নির্বাচনী এলাকা। কেননা এ আসন থেকে বিজেপি’র প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও কংগ্রেসের অজয় রায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নরেন্দ্র মোদীর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকে নবীন দল আম আদমি পার্টির নেতা কেজরিওয়াল চ্যালেঞ্জ জানানোয় আসনটি চলে যায় আলোচনার শীর্ষে।
আজ যেসব বিশিষ্ট প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে তাদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর প্রদেশে মুলায়ম সিং যাদব ও সড়কমন্ত্রী পি কে সিং। এছাড়া রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী, তৃণমূল প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী, নায়ক তাপস পাল ও বিজেপি প্রার্থী জাদুকর পি সি সরকার (জুনিয়র)। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। তবে উত্তর প্রদেশ ও বিহারের কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় ভোট গ্রহণ বিকেল ৪টায় শেষ হবে।
নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণ অবাধ ও সুষ্ঠু করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে যেসব এলাকায় ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে সেখানকার হোটেল ও আবাসিক কেন্দ্রগুলো বহিরাগত নির্বাচনী ও রাজনৈতিক কর্মীমুক্ত করা হয়েছে। এই পর্বের নির্বাচনের প্রাক্কালে আন্তঃরাজ্য সীমান্ত এবং নেপালের সঙ্গে বিহারের নির্বাচনী এলাকাগুলোর সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে গতকাল বেশ কয়েক দফা নির্বাচনী সহিংসতা হয়। এতে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএমের কয়েকজন নেতা আহত হন।
বিজেপি অফিসে ইসির অভিযান :এদিকে, গতকাল বেনারসে বিজেপি’র স্থানীয় কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের একটি যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্ধ করে। বিজেপি’র প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীকে নগরীতে সমাবেশ করার অনুমতি না দেয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি’র মধ্যে বিরোধের কয়েকদিন পর এ অভিযান চালানো হলো। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এ অভিযান চালানো হয়। শনিবার ছিল নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন। এরপর অফিসে প্রচার সরঞ্জাম রাখা অবৈধ।
