গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সাধারণ মানুষকে কম মূল্যে ফ্ল্যাট দিতে চাই। তাই বিদেশিদের সাথে ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশীয় নির্মাণকারী সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে আগ্রহী হলে তাদের সমান সুযোগ দেয়া হবে। গতকাল রবিবার রিহ্যাব নেতারা মন্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেলে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ করে দিলে তা বাংলাদেশের গৃহায়ন শিল্পকে সঙ্কটে ফেলবে দাবি করে নিজেদের উদ্বেগ মন্ত্রীকে জানিয়েছেন রিহ্যাব নেতারা। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী রিহ্যাবের নেতাদের বলেছেন, ফ্ল্যাটের দাম কমানোর স্বার্থে তিনি বিদেশি বিনিয়োগ নেয়া থেকে সরে আসছেন না। গৃহায়ন খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগে সমঝোতা স্বাক্ষর সইয়ের ১০ দিন পর গতকাল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন রিহ্যাব নেতারা। রিহ্যাব সভাপতি মোকাররম হোসেন খান বলেন, বর্তমানে তাদের তৈরি প্রায় ২২ হাজার ফ্ল্যাট অবিক্রিত রয়েছে। এই অবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগ অর্থাত্ মালয়েশিয়া সরকারকে উত্তরা ও কামরাঙ্গীরচরে ২২ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের সুযোগ দিলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো গভীর সংকটে পড়বে। এই ধরনের সিদ্ধান্তে দেশীয় প্রকৌশলী, স্থপতি এবং পেশাজীবী অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়বেন।
উত্তরা ও কামরাঙ্গীরচরে ২২ হাজার এপার্টমেন্ট তৈরিতে গত ৩০ জুলাই মালয়েশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের নেতারা ওই ২২ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের সুযোগ তাদের দিতে মন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান।
রিহ্যাব নেতাদের আহবানের পর মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া কেন, সিঙ্গাপুরের সঙ্গেও ফ্ল্যাট নির্মাণের চুক্তি করবো। এ ধরনের চুক্তি আপনাদেরকেও (রিহ্যাব) উপকারে আসবে। দেশি হোক, বিদেশি হোক, আমি আজ এগিয়ে নিতে চাই। সাধারণ মানুষকে কম মূল্যে ফ্ল্যাট দিতে চাই। উত্তরা ও কামরাঙ্গীরচরে ২২০০০ ফ্ল্যাট নির্মাণ করতে চাওয়া রিহ্যাবকে অন্য স্থানও দেখিয়ে দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক জায়গা পড়ে রয়েছে, আপনারা সেগুলোতে করেন, ঝিলমিল প্রকল্পে তো ১০ হাজার প্লট পড়েই রয়েছে।
