আকামা না পেয়ে সৌদি প্রবাসীরা আত্মগোপনে

আপডেট : ১২ মে ২০১৪, ২১:১৯
সৌদি আরবের জেদ্দায় ১২ বছর ধরে বোরকার ব্যবসা করে আসছিলেন পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী গ্রামের আমিনুল হক আমিন (৪৫)। গত বছর সৌদি সরকার প্রবাসীদের অবৈধ ঘোষণা করে পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য সময়সীমা বেধে দিলে প্রবাসী আমিন তার সৌদি ‘কফিলকে’ ৮ হাজার রিয়াল অর্থাত্ বাংলাদেশি মুদ্রায় এক লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা প্রদান করে আকামার জন্য। কিন্তু গত তিন মাস যাবত্ আকামা না পাওয়ায় আমিনকে আত্মগোপন করে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে। সম্প্রতি সেখানে বসবাসরত প্রবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সৌদি আরবে বসবাস করতে হলে প্রবাসীদের ‘সৌদি কফিলের’ নিয়ন্ত্রণে থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কফিলের নামে চাকরি, গাড়ি, বাড়ি ভাড়া, ব্যবসা বাণিজ্য ছাড়াও একজন সৌদি নাগরিককে চাকরি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ওই সৌদি চাকরিস্থলে না থাকলেও তার বেতন ভাতা যথাসময়ে পরিশোধ করার সরকারিভাবে নির্দেশ থাকায় মোটামুটিভাবে প্রবাসীদের সৌদি কফিল নির্ভরশীল হয়ে প্রবাসে থাকতে হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতার সুযোগে সৌদি কফিলরাও বিভিন্ন অজুহাত তুলে আর্থিক ও মানসিকভাবে প্রবাসীদের নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মক্কায় বসবাসরত রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া গ্রামের শামশুল আলম (৪৫) জানান, তিনি ১৮ বছর ধরে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ ঠিকাদারী অর্থাত্ শ্রমিক সর্দার হিসাবে কাজ করে আসছিলেন। তাকে নতুন করে আকামা সংগ্রহ করতে গিয়ে কফিলকে প্রায় ১০ হাজার রিয়াল অর্থাত্ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এমতাবস্থায়, তাকে ৫ জন সৌদির বেতন বাবদ ১৫ হাজার রিয়াল প্রতি মাসে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতদসত্ত্বেও ‘আজ দেব, কাল দেব’- এভাবে কালক্ষেপণ করে কফিল তার আকামাটি দিচ্ছেন না। ফলে তিনি নিজে ছাড়াও তার নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় অর্ধ শতাধিক শ্রমিককে গ্রেফতার আতংক মাথায় নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাপন করতে হচ্ছে। জেদ্দার নাক্কাছা এলাকায় জোব্বার ব্যবসায় জড়িত থাইংখালী তাজনিমার খোলা গ্রামের নুরুল আলম জানান, তার তিনটি বোরকার কারখানায় প্রায় ২ ডজন শ্রমিক রয়েছে। তিনটি কারখানায় প্রায় দুই লক্ষাধিক সৌদি রিয়াল বিনিয়োগ করে জোব্বা সেলাইয়ের কাজ চলছে। এমতাবস্থায় হঠাত্ করে সৌদি সরকার সেখানে বসবাসরত প্রবাসীদের অবৈধ ঘোষণা করায় তার তিনটি কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। শ্রমিকেরা রয়েছেন আত্মগোপনে। প্রবাসী অধ্যুষিত জেদ্দার আরবাতাস এলাকায় গিয়ে জানা যায়, শত শত প্রবাসী সেখানে আকামাবিহীন অবস্থায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। চাকবৈঠা গ্রামের মোহাম্মদ আলম জানান, আকামা প্রদানের সুযোগ নিয়ে কফিলেরা ইচ্ছামতো অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরও প্রবাসীদের আকামা দিতে বিলম্ব করায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের অসহনীয় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। পক্ষান্তরে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে আকামা প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে। জেদ্দাস্থ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ জানান, সৌদি সরকারের আইন অনুযায়ী অবৈধ প্রবাসীদের কাজে না রাখার নির্দেশে অনেক বাংলাদেশি না খেয়ে দিনযাপন করছেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের শ্রম বাজার দখল করে নিচ্ছে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকাসহ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তিনি জানান, কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে আকামা ও পাসপোর্ট তৈরির সমস্যা সমাধান করা হলে বাংলাদেশি প্রবাসীরা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি সরকার প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হতো।