বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উত্সব পবিত্র বৌদ্ধ পূর্ণিমা আজ মঙ্গলবার। এই পুণ্যতিথিতে গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ ঘটেছিল।
যথাযথ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এ উত্সব পালন করবেন। বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকালে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দিরে আলোকসজ্জা, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, কঠিন চিবর দান, আলোচনা সভাসহ থাকছে নানা আয়োজন। সব প্রাণীর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ প্রার্থনা।
বৌদ্ধ ধর্মমতে,আজ থেকে আড়াই হাজারেরও বেশি বছর আগে বর্তমান নেপালের অন্তর্গত কপিপাবস্তু রাজ্যের শাক্যবংশীয় রাজা শুদ্ধধনের ঔরসে রানী মায়াদেবীর গর্ভে লুম্বিনী কাননে সিদ্ধার্থ গৌতমের জন্ম হয়। রাজপুত্র সিদ্ধার্থ মানুষের দুঃখে বেদনার্ত হয়ে মুক্তির উপায় খুঁজতে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন সত্যের সন্ধানে। বিভিন্নস্থানে পরিভ্রমণের পর অবশেষে তত্কালীন উপমহাদেশের বিহার রাজ্যের গয়ার ফল্গু নদীর তীরে অশ্বত্থ গাছের নিচে বজ াসনে বসে কঠোর সাধনায় লাভ করেন বুদ্ধত্ব। বুদ্ধত্ব পরবর্তী দীর্ঘ ৪৫ বছর ধর্ম প্রচার করে কুশিনারা মল্লদের শালবনে পরিনির্বাপিত হন। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে বৈশাখী পূর্ণিমার অপর নাম দেয়া হয় ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’।
গৌতম বুদ্ধ বিশ্বের মানুষের দুঃখ-বেদনাকে নিজের দুঃখ বলে হূদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন। মানব জীবনের দুঃখ তার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি সম্পদ, ঐশ্বর্য তথা সংসার জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন এবং জন্ম, জরা, ব্যাধি ও মৃত্যু এ চারটির কারণ উদঘাটন এবং মানুষের শান্তি ও মুক্তির লক্ষ্যে নিমগ্ন হন। বৌদ্ধ ধর্ম কর্মবাদী ধর্ম। এতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মানুষ তার কাজ অনুসারে ফল পাবে। প্রকৃত কর্মসাধনার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক মানুষের পক্ষে বুদ্ধত্ব অর্জন ও নির্বাণ লাভ সম্ভব। মহামতি বুদ্ধ মানুষকে মৈত্রী ভাবনায় ভাবিত হতে বলেছেন, পরের দুঃখে দুঃখী হয়ে, অপরের সুখে সুখী হয়ে উপেক্ষার মনোভাব নিয়ে জীবনযাপনের উপদেশ দিয়েছেন। বিশ্বচরাচরে সকল সত্ত্বা যেন সুখী হয়, এটাই ছিল বুদ্ধের ঐকান্তিক কামনা। বুদ্ধ তার শিক্ষা ও আদর্শ বিস্তারের জন্য গড়ে তুলেছিলেন ‘ভিক্ষু সংঘ’।
এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে বৌদ্ধ সমপ্রদায়কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ, বাংলাদেশ বুদ্ধিষ্ট ফেডারেশন বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।
বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বুড্ডিস্ট ফেডারেশন আজ মেরুল বাড্ডাস্থ ঢাকা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজ করেছে। ভোর সোয়া ৬টায় অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে।
উন্নয় বাংলাদেশ গঠনে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের
সহযোগিতা প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর
বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের সরকার সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বুদ্ধ পূর্ণিমা ২০১৪ উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরু, গণ্যমান্য ও প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন। বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বর্তমান সরকার সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সব ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে একত্রে বসবাস করছে এবং দেশে কোন প্রকার সংঘাতের সুযোগ নেই।
