বাংলাদেশিদের মত ধৈর্যশীল, পরিশ্রমী মানুষ কোথাও দেখিনি

আপডেট : ১২ মে ২০১৪, ২৩:০৪
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, বর্তমান সরকার শক্তভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা পরিবর্তন চাইছে। আমি অনেক দেশ দেখেছি, কিন্তু বাংলাদেশিদের মতো সৃষ্টিশীল, ধৈর্যশীল আর পরিশ্রমী মানুষ কোথাও দেখিনি। গতকাল সোমবার সকালে মাগুরার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সুশীল সমাজের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ হবে এশিয়ার বাঘ। এজন্য অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। এদেশে গ্যাস আছে, কয়লা আছে। এখানকার কৃষি ও খনিজ সম্পদ নিয়ে কাজ করতে হবে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ নয়। দরিদ্র কিছু লোক এখানে থাকতে পারে। ঈশ্বর বাংলাদেশকে সব কিছু দিয়েছেন। বাংলাদেশ উন্নয়নের হাইওয়েতে আসছে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার মাঠ পর্যায়ের সফর সম্পর্কে বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের কাছে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আমি আমার পরিচয়পত্র জমা দেয়ার সময় ৬৪টি জেলা ঘুরে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলাম। সেই ইচ্ছা থেকেই আমি মাগুরায় এসেছি। বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে মজীনা বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। ওই বিনিয়োগ বাংলাদেশেও আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে ভাবতে হবে, লাভ যেখানে বেশি হবে বিনিয়োগও সেখানে যাবে। বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মজীনা আরও বলেন, জিএসপি সুবিধা স্থগিতের কারণ হলো গার্মেন্টস খাতে যেন রানা প্লাজা বা তাজরীনের মতো দুর্ঘটনা না ঘটে। কারখানার কর্ম পরিবেশ যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়। শ্রমিকেরা তাদের ন্যায্য অধিকার পান। মার্কিন রাষ্ট্রদূত পরে মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিদ্যালয় মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সিরাজুল আকবর, জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ আহমেদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, গতকাল বিকালে ঝিনাইদহ পৌর মিলনায়তনে মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর সভাপতিত্বে এক নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি যোগ দেন। ঐ অনুষ্ঠানে মজীনা বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের যে স্বপ্ন দেখেছিল তা বাস্তবায়ন হতে চলেছে। তিনি বলেন, আমি শুধু ঢাকার রাষ্ট্রদূত নয়, সারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। আমেরিকাকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং সিলেট থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত সফর করছি। এর আগে তিনি ঝিনাইদহ সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। তিনি ঝিনাইদহ জেলা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে চান। ভবিষ্যত্ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি কমিউনিটি রেডিও ঝিনুক পরিদর্শন করেন এবং এ সময় তিনি রেডিও ঝিনুকে একটি সাক্ষাত্কার দেন। আজও তিনি দিনব্যাপী ঝিনাইদহের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবেন।