সেতু কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

আপডেট : ১২ মে ২০১৪, ২৩:০৫
‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৪’র খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন লাভ করেছে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সামরিক শাসনামলে করা বিদ্যমান আইনটি ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অকার্যকর হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে ‘যমুনা মাল্টিপারপাস ব্রিজ অথরিটি অর্ডিন্যান্স’ নামে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ১৯৯৬, ১৯৯৮ ও ২০০৯ সালে সংশোধনের পর ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন’-এ পরিণত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে আগের সংশোধনীগুলো রেখে আইনটিকে আরো হালনাগাদ এবং বাংলায় করা হচ্ছে। তবে আইনটিতে কোন বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে না। তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুর কাজ শুরু করার সময় আইনটিতে সংশোধনী আনা হয়। পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ভবিষ্যতে ১৫শ’ মিটার বা এর বেশি দৈর্ঘ্যের সেতু, বাইপাস বা এ জাতীয় স্থাপনার কাজ এ আইনের আওতায় করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ আইনের আওতায় সেতু নির্মাণ করবে সেতু বিভাগ। নির্মাণের পর ওই সেতু রক্ষণাবেক্ষণ করবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হবেন নির্বাহী পরিচালক। আবার এ প্রতিষ্ঠানের একটি বোর্ড থাকবে যার নাম হবে ‘বাংলাদেশ সেতু বোর্ড’। এ বোর্ডের প্রধান হবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অর্থাত্ যোগাযোগ মন্ত্রী। ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৪’র খসড়ায় এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে। মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া আরো বলেন, ১৫শ’ মিটারের কম দৈর্ঘ্যের সেতুর নির্মাণ কাজ সড়ক বিভাগ করবে খসড়ায় এমন বিধান রয়েছে। তবে সড়ক বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের কাজ প্রায় একই হওয়ায় যাতে কোন সমস্যা না হয়, তারও একটি বিধান রাখা হয়েছে আইনের খসড়ায়। তিনি বলেন, সড়ক বিভাগ ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয় কে কোন্ কাজ করবে তার একটি তালিকা তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ও সড়ক বিভাগের সচিবকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি সংক্রান্ত স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবটি অনুমোদন হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে। এছাড়া উভয় দেশের এ পাসপোর্টধারী নাগরিকরা অন্য দেশে ভিসাবিহীন ৯০ দিন অবস্থান করতে পারবেন। সচিব বলেন, ঢাকায় সার্ক মন্ত্রিপরিষদ সচিবগণের দ্বিতীয় সভার আয়োজন এবং ওই সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে। সভায় মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলের সাফল্যের কথা তুলে ধরে অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সার্ক মন্ত্রিপরিষদ সচিবগণের তৃতীয় বৈঠক ২০১৫ সালে পাকিস্তানে ও চতুর্থ বৈঠক ২০১৬ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ১৭ থেকে ১৯ মার্চ সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় ইসলামিক কনফারেন্স অব ইয়থ এন্ড স্পোর্টস মিনিস্টার্স (সিওয়াইএসএম)’র কার্যক্রম অবহিত করা হয়।