বেনাপোল পৌরসভার প্যানেল মেয়র তারিকুল আলম তুহিনের অপহরণের সঙ্গে র্যাব জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তুহিনের স্ত্রী সালমা আক্তার। গত শনিবার সন্ধ্যায় বেনাপোল বাজারের কাছে নিজ বাড়িতে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে সালমা আক্তার দাবি করেন, প্রশাসনের কাছেও তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। যশোর র্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সালমা আক্তার তাদের কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ করেননি।
সালমা আক্তার দাবি করেন, ‘২০১৩ সালের ৭ মার্চ দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনে যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার পর তুহিন নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার পাঁচদিন পর তুহিনের চাচাতো ভাই সুমন মাহমুদ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় অপহরণের অভিযোগে একটি মামলা করেন। তিন মাস পর ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলাটি আট মাস ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের অধীনে ছিল। বর্তমানে তা ডিবির মানবপাচার প্রতিরোধ টিমের অধীনে তদন্তাধীন রয়েছে।’
সালমা আক্তার আরো বলেন, ‘আমাদের ধারণা, র্যাবের লোকজন তুহিনের অপহরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
র্যাবকে সন্দেহ করার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, ‘অপহরণের চারদিন আগে ৩ মার্চ বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম ওরফে লিটনের লোকজনের সঙ্গে তুহিনের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় বেনাপোল শহরে ব্যাপক বোমাবাজি হয়। ঘটনার পর ওইদিন রাত একটার দিকে র্যাবের লোকজন বাড়িতে এসে তুহিনকে খোঁজ করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন।’
সালমা জানান, র্যাব সদস্যরা তুহিনের উদ্দেশে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তুই যেখানেই থাকিস, তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।’
সালমা বলেন, ৫ মার্চ রাত একটার দিকে আবার র্যাবের সদস্যরা বাড়িতে আসেন। তারা গেটের তালা কাটার চেষ্টা করেন। তুহিন বাড়িতে নেই জানালে তারা চলে যান।
সালমা অভিযোগ করেন, নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পরে তুহিনের মোবাইল ফোন থেকে তার কাছে ফোন আসে। ফোনে এক ব্যক্তি তাকে জানান, তুহিন তাদের কাছে আছেন। ১০ লাখ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। কিন্তু পাঁচ লাখ টাকা দিতে রাজি হন তিনি (সালমা)। সেই টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তুহিনকে আজো ফেরত দেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য গত শনিবার সন্ধ্যার পর সংসদ সদস্য আফিল উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার পিএস সাংবাদিক পরিচয় শুনেই ফোন কেটে দেন।
