ভারতের ১৬তম লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা দল (বিজেপি) ধরেই নিয়েছিল যে দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করবে। কিন্তু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ যতোই এগিয়েছে বিজেপি নেতৃবৃন্দের মনে হতাশা ততোই বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন না পেলে দলটির নেতা নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্খাও উবে যেতে পারে। এই হতাশার মধ্যেই দলটি এখন সরকার গড়তে নতুন মিত্র দলের সন্ধান শুরু করেছে।
মোদী এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী সমাবেশে আঞ্চলিক দলগুলোর সরকার পরিচালনা নিয়ে রুঢ় মন্তব্য করেছিলেন। তবে এজন্য দলগুলোর সঙ্গে মিত্রতার সম্পর্ক গড়তে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন দলটির নেতৃবৃন্দ। মোদীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অমিত শাহ উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্বে ছিলেন। সরকার গঠনের জন্য এই রাজ্যটি বিজেপি’র জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গুজরাটের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার বলেন, বিজেপি রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতায় বিশ্বাস করে না। দলটির একজন নেতা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, শেষ পর্বের ভোটের পর দলের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে এবং সরকার গঠনের জন্য সম্ভাব্য সহযোগী দল খোঁজা হবে। এটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, নির্বাচনের আগে ৫৪৩ আসনের লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ের স্বপ্ন দেখা বিজেপি বুঝতে পারছে, সেই সম্ভাবনা হয়তো নেই।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে বিজেপি তিনটি বিষয়ে উপর নির্ভর করেছিল। প্রথমটি ছিল যে রাজ্যে দলটি সরকার পরিচালনা করছে সেইসব রাজ্যে অধিক আসন পাওয়া। দলটি উত্তরপ্রদেশে অমিত শাহকে পাঠিয়েছিল এই কারনে যে সেখানে যেন ৫০ টির উপরে আসনে জয় পাওয়া যায়। ১৯৯৮ সালে যখন বিজেপি’র অটল বিহারী বাজপেয়ির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয় তখন এই প্রদেশে ৫৭টি আসনে জয়ী হয় দলটি। উত্তরপ্রদেশের মোজাফফরনগরে সামপ্রদায়িক দাঙ্গা থেকে সুবিধা পাওয়ার আশা করেছিল এই দল। তবে এটা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না যে ১৯৯৮ সালের লোকসভা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। ২০০৯ সালে দলটি উত্তরপ্রদেশে মাত্র ১০টি আসন পেয়েছিল। এই প্রদেশে মুসলমানরা বহুজন সমাজ পার্টিকে (বিএসপি) সমর্থন করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপি নির্বাচন পরবর্তী মিত্র খোঁজার চিন্তা করছে। তবে আর যাই হোক মোদীর প্রধানমন্ত্রীত্বের বিষয়ে সমর্থন পেতে বিজেপিকে চরম বেগ পেতে হবে। কারন বিএসপি প্রধান মায়াবতী মোদীকে কোনোভাবেই সমর্থন করবেন না বলে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিও মোদীকে সমর্থন না করার ব্যাপারে তার মতামত দিয়েছেন। মোদীকে তিনি বিভিন্ন নেতিবাচক বিশেষণেও বিশেষায়িত করেছেন। আর বিজেপি ১৮০ থেকে ১৯০টির বেশি আসন পেতে ব্যর্থ হলে সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ২৭২ আসন পেতে দরকার হবে ৮০ থেকে ৯০টি আসন। এক্ষেত্রে দলের অন্য কোনো নেতাকে সমর্থন দিতে পারে দল। যদিও মোদী সমর্থকরা মনে করছেন, মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে না পারলে বিরোধী দলে থাকাই শ্রেয় হবে। মোদী ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন দলটির নেত্রী সুষমা স্বরাজ। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা এলকে আদভানি তাকে সমর্থন দিবেন। মুরলি মনোহর জোশীও সুষমা স্বরাজকে সমর্থন দিতে পারেন। এরপর আছেন দলটির প্রেসিডেন্ট রাজনাথ সিং। আর যদি তাদের দুজনের যে কোনো একজন প্রধানমন্ত্রী হন তাহলে মায়াবতী এবং মমতা সরকার গঠনের জন্য বিজেপিকে সমর্থন দিতে পারেন।
