যখন জানতে পারলাম আমি সাউথ এশিয়ান ইকোনমিক্স স্টুডেন্টস মিটের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গত ১০ বছর ধরেই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে সাসেম। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা। মালদ্বীপ বাদে সার্কভুক্ত বাকি সবগুলো দেশই অংশগ্রহণ করে এই প্রতিযোগিতায়। আফগানিস্তান অবশ্য এবারই প্রথমবারের মত অংশগ্রহণ করে। সাসেমকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা হয়। প্রতিযোগিতা ও রিত্রিট। প্রতিযোগিতাটি তিনটি ধাপে বিভক্ত, পেপার প্রেজেন্টেশন, বাডিং ইকোনমিস্ট ও ইকোনোমিক্স কুইজ। রিত্রিটে সকল দেশের প্রতিযোগীদের নিয়ে যাও্য়া হয় আয়োজক দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। এরই অংশ ছিল হরপ্পা ভ্রমণ।
দিল্লি, কাঠমুন্ডু ঘুরে এবারের আয়োজক ছিল লাহোর। লাহোর বলতে লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সাইন্সেস (লামস) তড়িঘড়ি করেই সবকিছু করতে হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে আমরা ১০ জন ছিলাম। সাথে ছিলেন কামরুন নাহার ম্যাডাম ও আব্দুল্লাহ স্যার। লাহোর এয়ারপোর্টে নামার সাথেই সাথেই আমাদেরকে অভ্যর্থনা জানাল ঠাণ্ডা বাতাস। সেইরাতে লাহোরের তাপমাত্রা ৫-৬ ডিগ্রির বেশি ছিল না। লামসের ছেলে-মেয়েরা আমাদের বরণ করে নিয়ে গেল ওদের ক্যাম্পাসে। খুবই সুন্দর আর গোছানো ক্যাম্পাস ওদের। বাকি ছ্য় দেশের প্রতিযোগীদের সাথে আমাদেরও রাখা হল আরইডিসিতে। পরদিন থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রতিযোগিতা।
প্রথমেই পেপারের প্রাইজ ঘোষণা করা হল। ৬টির মধ্যে ভারতই নিয়ে গেল চারটি, বাকি দুটি পেল পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। এরপর বাডিং ইকোনমিস্টওটা নিয়ে গেল শ্রীলংকার মেয়ে সাতুনি উডুত্তালে। তাহলে কি বাংলাদেশ এবার খালি হাতে ফেরত যাবে? একদম শেষ প্রাইজটি ঘোষণা করা হল- ‘এবারের ইন্টার ইউনিভার্সিটি ইকোনমিক্স কুইজের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ!’ নিজের কানকে বিশ্বাস হচ্ছিল না। আমরা পেরেছি!
বাংলাদেশকে জেতানোর সুখস্মৃতি নিয়েই পরদিন বের হলাম রিত্রিট-এ। প্রথমদিনেই গেলাম হরপ্পা। হরপ্পা দেখে ওইদিন বিকেলে গেলাম শেরগার-এর মাজারে। মুঘল আমলের মাজার। খুব সুন্দর কারুকার্যময় ছিল মাজারটি। মাজার হলেও যিনি স্থপতি তিনি খুব সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন মুঘল নকশা। মাজার দেখানোর পর আমাদের নিয়ে যাওয়া হল আয়োজক কমিটির প্রধান তোরাব আলি স্যারের বাগান বাড়িতে। সেখানে গিয়ে দেখি এলাহি কাণ্ড। সবার জন্য বিশাল ভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক ধরনের কাবাব, পরোটা, মিষ্টি, বাসমতিসহ নাম না জানা আরও অনেক খাবার। দেখলাম ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার নাচ। সুন্দর একটি দিন শেষ করে আমরা ফিরে গেলাম লামসে।
