বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের অনার্স জীবনের শেষ শিক্ষাসফরকে সফল ও জীবনের ক্যানভাসে বেঁধে রাখতে আয়োজন করা হয় সিলেট সফর। সফরটি ছিল পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের। এ বিভাগের সকলের সহায়তায় এবং প্রায় সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সকল প্রস্তুতি শেষ হয়। এ সফরের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয় আমাদের সকলের প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম ভূট্টো এবং অধ্যাপক ড.মো. শাহাদাত হোসেন সুমন স্যারকে পেয়ে।
দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাড থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতেই লাক্কাতুরা এস্টেটে (ন্যাশনাল টি.কো.লি.) আমরা চা প্রসেসিং ও চা বাগান অবলোকন করি। এরপর সিলেটের বিখ্যাত পাঁচ ভাই হোটেলে দুপুরের ভোজন শেষে সরাসরি প্রকৃতি কন্যা হিসাবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং এ। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমান্তেরর ওপারে ইনডিয়ান পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি, উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও সুনসান নিরবতার কারণে এলাকাটি আমাদের দারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও জাফলং বিউটি স্পট, পিকনিক স্পট, সৌন্দর্যের রাণী- এসব নামেও ব্যাপক পরিচিত। সিলেট ভ্রমণে এসে জাফলং না গেলে ভ্রমণই যেন অপূর্ণ থেকে যায়। জাফলং ঘুরা শেষে সিলেটের এগ্রিকালচারাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আমরা গল্প-গুজব আর হাসি ঠাট্টা করে রাত কাটাই। বৃষ্টিময় আবহাওয়া থাকায় এতো লম্বা ভ্রমণ করেও কারো মুখে কোন ক্লান্তির ছোয়া ছিল না। পরদিন ভোরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে পানসী রেস্টুরেন্টে নাস্তা করে মাজারের শহর সিলেটের মাজার দেখতে বের হই।
এরপর বাংলাদেশের বৃহত্তম একমাত্র প্রাকৃতিক জলপ্রপাত মাধবকুন্ড ইকোপার্ক। সুবিশাল পর্বত গিড়ি, শ্যামল সবুজ বনরাজি বেষ্টিত ইকোপার্কে প্রবীন, নবীন, নারী-পুরুষদের উচ্ছাস অট্টহাসি আর পাহাড়ী ঝরনার প্রবাহিত জলরাশির কল কল শব্দ স্বর্গীয় আবহ সৃষ্টি করে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির পাখী, বন্য বানর ও কীট পতঙ্গের অচেনা সুর লহরী শিল্পী, সাহিত্যিক, গবেষক ও ভ্রমণ পিপাসুদের মনে এন দেয় এক অনাবিল আনন্দ।
