ঢাকার অদূরে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নে টোপের বাড়ী গ্রামে সবুজ বৃক্ষরাজীর সুশীতল ছায়ায় এক সময়ের প্রমত্তা বংশী নদীর তীরে অবস্থিত হামিদা-আফাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। আমি আয়েশা আক্তার এ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের একজন ছাত্রী। টোপের বাড়ী গ্রামের প্রয়াত সেনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী হাজী মহম্মদ মহসীন উজ্জামান ১৯৯৫ সালে ১ জানুয়ারি ১৫১ শতাংশ জায়গার উপর স্বীয় মাতা-পিতার নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন। বিদ্যালয়ের সামনের খেলার মাঠ। রয়েছে সুসজ্জিত বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব। শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৮২ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। আমাদের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ একজন বি.এস.সি.বি.এড। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধূলা সহ নানা বিষয়ে আমাদের বিদ্যালয়টির বেশ সুনাম রয়েছে। দূর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা। সব পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। ২০০৫ সাল থেকে আন্তঃ উপজেলা হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় আমাদের বিদ্যালয়ের টীমটি নিয়মিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসছে। জাতীয় পর্যায়েও আমাদের বিদ্যালয় অংশ গ্রহণ করে থাকে। আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ২০০৯ সাল থেকে পর পর তিন বছর উদ্দীপনা পুরস্কার পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পর থেকে তার পুত্র আজীবন দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য লায়ন শহীদ মহসীন মুজিব বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, আজীবন দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রতিষ্ঠাতার কন্যা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. সোহানা জেসমীন মুক্তা, অন্যান্য সদস্য, শিক্ষক, সম্মানিত অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যাপীঠটির সার্বিক উন্নয়নে সচেষ্ট। এ্যাড. সোহানা শিক্ষার্থীদের ড্রেস, গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ, যাবতীয় অনুষ্ঠান ও পুরস্কার সামগ্রীর ব্যয়ভার করে থাকেন। প্রাক্তন সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ সরকারি অর্থায়নে তিনতলা ভিত্তির উপর একটি একতলা ভবন নির্মাণে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। নিরিবিলি ও মনোরম গ্রামীণ পরিবেশে অবস্থিত হামিদা-আফাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি আমার প্রিয় বিদ্যাপীঠ, এ বিদ্যাপীঠের ছাত্রী হতে পেরে আমি গর্বিত।
