আজ ১৪ মে মুন্সীগঞ্জবাসীর বিশেষ শোক দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বুদ্ধিজীবীসহ ১৬ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাক বাহিনী।
১৪ মে ভোর ৪টা। মুন্সীগঞ্জ শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে মহাকালী ইউপির কেওয়ার চৌধুরী বাজার গ্রামের চৌধুরী বাড়িটি ঘিরে ফেলে পাকিবাহিনী। বিশাল ঐ বাড়ি থেকে তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ২২ জন পুরুষকে ধরে নিয়ে যায় প্রায় ১ কিলোমিটার দূরবর্তী সাতানিখিল খালের পাশে। এরপর সকাল ৮টার দিকে ১৬ জনকে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে পাক বাহিনী। ঘটনাস্থলেই ১৪ জন শহীদ হন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান জিতু ভৌমিকসহ দু’জন। বাকী ৬ জনের মধ্যে আইনজীবী কেদারেশ্বর চৌধুরী ও চিকিত্সক ডা. সুরেন্দ্র চন্দ্র সাহাকে নিয়ে যাওয়া হয় হরগঙ্গা কলেজে পাক বাহিনীর ক্যাম্পে। অমানুষিক নির্যাতন করে এই ক্যাম্পে হত্যার পর দুজনের লাশ পাশের বিলে ফেলে রাখে তারা। লাশ দেখতে যাওয়ায় আরও দুই রিক্সা চালককে হত্যা করে হানাদাররা। আইনজীবী কেদারেশ্বর চৌধুরীকে ক্যাম্প থেকে প্রথমে ছেড়ে দিলেও পরে আবার ধরে এনে হত্যা করে। বাকী চারজন ভাগ্যক্রমে রক্ষা পান। এদের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের যুবক চন্দন মুসলমান বলে নিজেকে রক্ষা করেন। বাকী আরও ৩ জন রক্ষা পান নানা কৌশলে। পাক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের ঐ ঘটনায় পিতা ডা. সুরেন্দ্র চন্দ্র সাহা, দু’ ভাই শিক্ষক সুনিল কুমার সাহা ও অজয় কুমার সাহাকে হারিয়েছেন সুভাস চন্দ্র সাহা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার দাবি শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ করা হোক, মর্যাদা দেয়া হোক শহীদ বুদ্ধিজীবীর। ঐ ঘটনায় পিতা অধ্যাপক সুরেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যকে ও সহোদর ভাই প্রধান শিক্ষক বাদল ভট্টাচার্যকে হারিয়ে ৪৩ বছর ধরে বুকের কষ্ট বহন করে চলেছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার দিপালী ভট্টাচার্য। পিটিআইয়ের অবসরপ্রাপ্ত ইন্সট্রাক্টর ভাগ্যবালা চক্রবর্তীর পিতা পুরোহিত হরকুমার চক্রবর্তীকেও ঐদিন গুলি করে হত্যা করা হয়। ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয় কল্যাণী মুখার্জীর স্বামী শচীন্দ্র নাথ মুখার্জীকে। হত্যা করা হয় বৈকুণ্ঠ পাল, বাঞ্ছারাম পাল, মঙ্গল ধুপী, স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিপদ কর্মকারকে। আজও তাদের স্মৃতি বুকে নিয়ে বেঁচে আছেন স্বজনরা। তাদের অশ্রু শুকায়নি গত ৪৩ বছরেও।
