শেষ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদিনই সহিংসতার আশংকার কথা জানানো হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি)। আচরণবিধি লঙ্ঘন, হামলা-ভাংচুর-কেন্দ্র দখলের আশংকার ব্যাপারে আগাম অভিযোগ করছেন প্রার্থীরা। লিখিত আবেদনে তারা বিগত ধাপগুলোর মতো ষষ্ঠ ধাপেও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশংকা করেছেন। প্রার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে নানা বাধা ও হামলার শিকার হচ্ছেন তারা। এ জন্য তারা কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কমিশন বলছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। আগামী ১৯ মে ১২ উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয় এই নির্বাচনে কেউ রাজনৈতিক বা দলীয়ভাবে নির্বাচন করতে পারবে না। রাজনৈতিক পরিচয়ে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করার চেষ্টা করলে সব বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। নির্বাচনের আগের দুইদিন, নির্বাচনের দিন ও পরের দুইদিন মোট পাঁচদিন সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে।
প্রার্থীরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে কমিশনে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। বেশিরভাগ অভিযোগই আচরণবিধি লঙ্ঘনের। কোথাও প্রভাবশালী প্রার্থীর বিরুদ্ধে পোস্টার ছেঁড়া, মারধর ও কেন্দ্র দখলের আবার কোথাও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা।
গত রবিবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাওছারুল ইসলাম সুমন নির্বাচন কমিশনে সরকার সমর্থিত প্রার্থীর হুমকি ও কেন্দ্র দখলের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। একইভাবে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আবেদন জানিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবদুল আজিজ সরকার। একই ধরনের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহিদ সিরাজী। তবে স্থানীয় সরকারের নির্দলীয় উপজেলা নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালীদের গোপন নজরদারিতে রাখার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
এদিকে, ষষ্ঠ ধাপের উপজেলা নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকাতে পারেনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দল দু’টির পক্ষ থেকে একক প্রার্থী দিয়ে অন্য প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হলেও সফলতা মিলেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অরাজনৈতিক হলেও ভোটের মাঠে প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয়ই প্রাধান্য পাচ্ছে। প্রায় প্রত্যেক উপজেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একাধিক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এমনকি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনেও দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশ মানেনি বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এ নিয়ে অনেকটাই বিপাকে পড়েছে দু’ দলের হাইকমান্ড।
শেষ ধাপে ১২ উপজেলায় ৬১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে অর্ধেক প্রার্থীই বিদ্রোহী। এ ছাড়া ৬৯ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ৪৯ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যেও অধিকাংশ দলীয় হাইকমান্ডের বাইরে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করছেন। আগামী ১৯ মে এসব উপজেলায় নির্বাচন হবে। প্রথম দুই ধাপের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের ফলাফলে এগিয়ে যায় আওয়ামী লীগ।
যে ১২ উপজেলায় ভোট
গত ১৬ এপ্রিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকীবউদ্দিন আহমদ ১৪ উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এর মধ্যে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়। আগামী ১৯ মে ১২টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো-রংপুর সদর, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, বরগুনার তালতলি, টাঙ্গাইলের বাসাইল, গাজীপুর সদর, রাজবাড়ীর কালুখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর এবং সদর দক্ষিণ। এদিকে একই তারিখে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু হয়ে ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে পাঁচ ধাপে এ পর্যন্ত মোট ৪৫৯টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপ, ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ১৫ মার্চ তৃতীয় ধাপ, ২৩ মার্চ চতুর্থ ধাপ এবং ৩০ মার্চ পঞ্চম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি উপজেলায় সীমানা জটিলতা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও মেয়াদ শেষ না হওয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
