ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীকে ঠেকাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আবার সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চান কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। লোকসভার ভোটপর্ব শেষ হতেই সোমবার সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ‘কোর কমিটি’ বৈঠকে বসে। সেখানে দুটি সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমটি হল, মোদীকে ঠেকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। এবং দ্বিতীয়টি হলো, বুথফেরত জরিপের ফলাফল দল খারিজ করবে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া তার রিপোর্টে জানায়, প্রথম উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে গেলে, তৃণমূলসহ আঞ্চলিক দলগুলিকে পাশে পেতেই হবে কংগ্রেসকে। সে জন্যই মমতাকে পাশে পেতে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে চায় কংগ্রেস। কংগ্রেসের একটি সূত্র জানিয়েছে, মমতার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী নিজেই।
ইউপিএ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস বেরিয়ে আসার পর গত দেড় বছর ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ককে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী। কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্ক খারাপ হলেও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার সম্পর্কে উষ্ণতায় ভাটা পড়েনি। দু’জনেই একে অপরের প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল। মোদীর হাতে যাতে ভারতের নিয়ন্ত্রণ না যেতে পারে সেজন্য পুরনো সম্পর্ককে উজ্জীবিত করে তোলার এই চেষ্টা। কংগ্রেসের এক নেতা জানান, ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূল-সহ অনেক আঞ্চলিক দলকেই আমরা পাশে পেতে চাই। সে জন্যই যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই আঞ্চলিক দলের তালিকায় রয়েছে, মায়াবতীর বিএসপি, মুলায়ম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টি, চন্দ্রশেখর রাওয়ের তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির মতো দলগুলি। তবে এই সব নেতা-নেত্রীদের মধ্যে মমতাকেই বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে কংগ্রেস। ভোটপর্ব চলার সময় থেকেই কংগ্রেস নেতারা কীভাবে মোদীকে ঠেকানো যায়, সেই কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন। কংগ্রেস সব বিকল্পই খোলা রাখছে বলে দলীয় সূত্র জানায়।
