রাজধানীতে গণধর্ষণের শিকার এক নারী সাংবাদিক, মামলা

আপডেট : ১৩ মে ২০১৪, ২৩:০২
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন একটি অনলাইন পত্রিকার এক নারী সাংবাদিক। গত সোমবার রাত ১১টার দিকে উদ্যানের জাতীয় তিন নেতার মাজারের পেছনে অস্ত্রের মুখে ওই নারী সাংবাদিককে তার প্রেমিক ও প্রেমিকের চার বন্ধু গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওই তরুণী শাহবাগ থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। প্রতারক প্রেমিক নাঈমকে প্রধান আসামি করে চার জনের নাম প্রকাশসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জনকে মামলায় আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন, শাহীন, রুবেল, ইমরান, হাবিব। শাহবাগ থানা সূত্রে জানা গেছে, ১০ দিন আগে ওই তরুণীর সঙ্গে নাঈমের (২৭) পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত কয়েকদিন ধরেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাস টাওয়ারের সামনে তারা দেখা করতো। গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ডেকে আনে নাঈম। আড্ডা গল্পের নামে রাত ১১টা পর্যন্ত কালক্ষেপণ করে সে। পরে শাহীন, রুবেল, ইমরান, হাবিব নামে কয়েক বন্ধু ছাড়াও অজ্ঞাত আরো কয়েকজন যুবক নাঈমের সঙ্গে যোগ দেয়। নাঈম তাদেরকে তার বন্ধু ও বিবাহের সাক্ষী বলে পরিচয় করিয়ে দেয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় তিন নেতার মাজারের পিছনের আনসার ক্যাম্পের পাশে ওই তরুণীকে ছুরির মুখে জিম্মি করে গণধর্ষণ করে নাঈম ও তার বন্ধুরা। ধর্ষণের পর রাত সোয়া ১২টার দিকে ওই তরুণী রিকশাযোগে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নীলক্ষেত মোড়ে পৌঁছালে বিষয়টি দায়িত্বরত পুলিশের নজর কাড়ে। দায়িত্বরত পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসে। উদ্ধারের পর তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে রাতেই পুলিশ সন্দেহভাজন এলাকায় তল্লাশি চালায়। ঘণ্টাব্যাপী চালানো ওই তল্লাশি শেষে কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তরুণীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এদিকে এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলীর সঙ্গে তিনি গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে যখন ক্যাম্পাস পরিদর্শন করছিলেন এসময় তিন নেতার মাজারের পাশে এক তরুণীকে কয়েকজন ছেলে জেরা করতে ছিল। এ সময় তরুণীটি রিকশায় ছিল। পরে যখন তাদের গাড়িটি রিকশার কাছে এসে দাঁড়ায় তখন ছেলেগুলো উদ্যানের ভেতরে পালিয়ে যায়।