জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১২ প্রদান অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাতীয় সংসদের তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এমপি
নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্রে বিলকিস বানু চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন জয়া। এবার তিনি রেদওয়ান রনির ‘চোরাবালি’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ২০১২ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন গুণী এ অভিনেত্রী। দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে কেমন লাগছে? নিজের অনুভূতি প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। আরও বেশি ভালো লাগছে এই কারণে যে, প্রথম বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করেই এত বড় স্বীকৃতি পাচ্ছি। এটা সত্যিই অনেক বেশি আনন্দের। আমি অনেক কৃতজ্ঞ জুরি বোর্ড, পরিচালক রেদওয়ান রনি এবং দর্শকদের কাছে। মূলত তাদের জন্যই আমার এ প্রাপ্তি। তাদের সবার প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ আমি।’
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র গত শনিবার ছিল তারকাদের মিলনমেলা। চলচ্চিত্র শিল্পে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ওই দিন প্রদান করা হয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১২। চলচ্চিত্রের ২৪টি ক্যাটাগরিতে ২৩ জন বিশিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেতা খলিল উল্লাহ খান। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা শাকিব খান ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে জয়া আহসান। আর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রে পুরস্কার পায় শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত ‘উত্তরের সুর’ ছবিটি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক এমপি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এমপি। মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটায় এমন চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, ‘চলচ্চিত্রে সমাজ ও মানুষের খারাপ দিকগুলোও তুলে ধরতে হবে। সেইসাথে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনেক সাফল্য এবং মানুষের ত্যাগের ইতিহাস আছে। তাই আপনাদের কাছে প্রত্যাশা, সেসব সাফল্য ও ত্যাগের ইতিহাস চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরুন।’ তরুণ সমাজকে বিপথে নিয়ে যায়, এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ না করার পরার্মশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র যেন সমাজ, বিশেষ করে তরুণদের বিপথে নিয়ে না যায় সেদিকে আরও মনোযোগ দিতে হবে।’ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আধুনিক বিশ্বের মতো আমাদের চলচ্চিত্রও যেন শিক্ষাবিস্তার, জাতিগঠন ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে পারে, তেমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অভিনেতা খলিল উল্লাহ খানের আজীবন চিকিত্সার ব্যয়ভার নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘চলচ্চিত্রশিল্পীরা আমাদের সারা জীবন আনন্দ দেন। অথচ শেষ বয়সে অনেকে অভাবের কারণে চিকিত্সা নিতে পারেন না। এ জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। অবশ্য এ জন্য আরও করণীয় আছে।’
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১২ প্রাপ্তরা হলেন
আজীবন সম্মাননা খলিল উল্লাহ খান, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘উত্তরের সুর’, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর (উত্তরের সুর), শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক হুমায়ূন আহমেদ (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ গল্পকার হুমায়ূন আহমেদ (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা রেদওয়ান রনি (চোরাবালি), শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হুমায়ূন আহমেদ (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা শাকিব খান (খোদার পরে মা), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী জয়া আহসান (চোরাবালি), শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান (চোরাবালি), শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী লুসি (উত্তরের সুর), শ্রেষ্ঠ খলনায়ক শহীদুজ্জামান সেলিম (চোরাবালি), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক ইমন সাহা (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ সুরকার ইমন সাহা (পিতা), শ্রেষ্ঠ গীতিকার মিল্টন খন্দকার (খোদার পরে মা), শ্রেষ্ঠ গায়ক পলাশ (খোদার পরে মা), শ্রেষ্ঠ গায়িকা রুনা লায়লা (তুমি আসবে বলে), শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান খলিলুর রহমান (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা এস এম মঈনুদ্দিন ফুয়াদ (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক রিপন নাগ (চোরাবালি), শ্রেষ্ঠ সম্পাদক ছলিমউল্লাহ ছলি (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ শিল্পনির্দেশক কলনতর ও উত্তম গুহ (রাজা সূর্য খাঁ)।
