মিথিলা—একাধারে তিনি মডেল, অভিনেত্রী, সংগীতশিল্পী এবং চাকরিজীবী।
বেশ কিছু যাবত্ অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন তিনি। স্বামী, সংসার আর সন্তান নিয়েই
ছিল তার যত ব্যস্ততা। এবার সেই ব্যস্ততা থেকে একটু সময় মিলেছে অভিনয় করার। মিথিলা নতুন নাটকে অভিনয় করছেন। তারসাথে কাটানো কিছুটা সময়ের গল্প পাঠকের জন্য। লিখেছেন সাবিহা সুলতানা জেমি
মিথিলার
সঙ্গে এই লেখকের এবারই প্রথম দেখা। স্বভাবতই মিথিলা সম্পর্কে জানার কৌতূহলটাও একটু বেশি। কারণ আমাদের নাটকপ্রিয় দর্শক মিথিলার অভিনয় ভীষণ পছন্দ করেন। তাই অভিনয়ে তার ফিরে আসাটা অনেকের কাছেই আনন্দের। ‘আয়না মহলে আয়না’ নাটকের শুটিংস্পটেই মিথিলার সঙ্গে কথা বলার কথা। কিন্তু ঢাকার গুলশানের নিকেতনের তিন নম্বর রোডের যে বাড়িতে রেদওয়ান রনি নাটকটির শুটিং করছিলেন সে বাড়িতে নাকি শুক্রবার লিফট খুব কম সময়ের জন্য ব্যবহার করার নিয়ম। তাই বিকেলে যখন মিথিলার সঙ্গে কথা বলতে যাই তখন লিফট বন্ধ। পায়ে হেঁটে ৯তলা উঠা সম্ভব নয়। পাঁচঘণ্টা পর ফিরে এসে একই দৃশ্য। না, এবার সাংবাদিক ফিরে যাবে বিষয়টি পরিচালকের আর সহ্য হলো না। তাই বিশেষ ব্যবস্থায় লিফট চালু হলো। অবশেষে মিষ্টি হাসির প্রিয়দর্শিনী মিথিলার সঙ্গে দেখা। নিজে থেকেই পরিচিত হলাম , আমি সাংবাদিক...। নাম শুনেই মিথিলা বলেন, ‘ও হ্যাঁ, কেমন আছেন আপনি? বসুন।’ বললাম, ‘এত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই। শুটিং করুন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে কথা বলে নেবো।’ পরিচালক জানান আপাতত কয়েকটা মিনিট মিথিলার সঙ্গে কথা বলা যাবে। মিথিলা জানান, তিনি নাকি ছোট্টবেলা থেকেই নাচে গানে দারুণ পারদর্শী। ছবি আঁকাতেও নাকি পটু ছিলেন। অভিনয়েও বেশ ভালো ছিলেন। কিন্তু নাচ আর গানে পরে আর নিয়মিত হয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তিনি কিছুটা নিয়মিত হয়েছেন মডেলিং এবং অভিনয়ে। সেখানেও নিজেকে ধরাবাঁধা নিয়মের মধ্যে রেখেছেন। কেন? ‘আসলে অভিনয় কিংবা মডেলিং ভীষণ ভালো লাগে আমার। তবে আমি চাকরিটাকে বেশি উপভোগ করি।’ চাকরি করেন আপনি? জানতাম না তো! মিথিলা বলেন, ‘হুম, আমি চাকরি করছি তো। ব্রাক (এনজিও)-এর ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। আর এ কারণেই কিন্তু আমাকে অভিনয়ে কিংবা মডেলিংয়ে খুব বেশি পাওয়া যায় না।’ কয়েকটি সিক্যুয়েন্স শেষ করে আড্ডায় যোগ দিলেন পরিচালক রেদওয়ান রনি, পার্থ বড়ুয়া ও মৌটুসী বিশ্বাস। পার্থ বড়ুয়া জানান মিথিলার সঙ্গে এটি তার দ্বিতীয় কাজ। এর আগে তারা দুজন আফজাল হোসেন মুন্নার ‘তোর জন্য প্রিয়তা’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন। তবে তারা তিনজন একসঙ্গে একই নাটকে এই প্রথম। এবার তিনজন একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে চলে গেলেন। ফিরে আসেন কিছুক্ষণ পরই মিথিলা। রাত তখন সাড়ে ১২টা। অভিনয় নাকি মডেলিং কোনটা আগে করেছেন? ‘আমি আসলে বিজ্ঞাপনেই আগে কাজ করেছি। ২০০৪ সালে অমিতাভ রেজার নির্দেশনা ক্লোজআপের বিজ্ঞাপনে কাজ করি। নাটকে প্রথম অভিনয় করি ২০০৭ সালে ফাহমির ‘শুনছেন একজন রেডিও জকির গল্প’তে। এরপর অনেক নাটকে কাজ করেছি।’ আপনি তো বেশ ক’বার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করেছেন! ‘ঠিক তাই। আমি বর্তমানে মেরিলের ব্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছি। এর আগে স্কয়ার এবং রবির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলাম।’ ছোট্ট এই জীবনে আপনার প্রিয় বন্ধু কে? ‘আমার বাবা (বজলুর রশীদ) আর আমার মা (মিসেস শামসুন্নাহার)। আর এখন আমার সময় কাটে কাজের পরে আমার একমাত্র মেয়ে আইরাকে নিয়ে। গত ৩০ এপ্রিল ওর জন্মদিন ছিল। আর আমার জন্মদিন ২৫ মে। আগে জন্মদিনে অনেক হৈ-হুল্লোড় করতাম। এখন এক্কেবারেই ঘরোয়া অনুষ্ঠান করি।’ মিথিলা গান গেয়েছেন তার স্বামী তাহসানের সঙ্গে কয়েকটি অ্যালবামে। ফারুকীর ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ ছবির জন্য তিনি গান লিখেছেন এবং গেয়েছেন। ছবিতে অভিনয় করার ইচ্ছে নেই? মিথিলা বলেন, ‘অবশ্যই ইচ্ছে আছে। অসাধারণ একটা গল্প পেলে, একজন ভালো নির্মাতা হলে চলচ্চিত্রে কাজ করব। তখন প্রয়োজনে অফিস থেকে ছুটি নেবো।’ রাফিয়াত রশীদ মিথিলা, মায়ের আদরের মিথি। ‘মিথি’র সঙ্গে কথা বলতে বলতে তখন অনেক রাত। মিথি বিদায় নিচ্ছেন শুটিং ইউনিটের সবার কাছ থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে। সেইসঙ্গে আমিও। একসাথে পায়ে হেঁটে হেঁটে নেমে নিচে এসে দু’জন দু’গন্তব্যের পথে পা বাড়ালাম। হয়তো আবার দেখা মিলবে মিথির সঙ্গে অন্য কোনোদিন।
