হঠাত্ করেই সবার নজর কাড়লেন তিনি। এলোকেশী নন মোটেও, চেহারাতেও নেই খুব একটা গাম্ভীর্য। দেখে মনে হয় ছোট্ট এক কিশোরী। চেহারায় শুধু আছে আদুরে ভাব। সেই সাথে যোগ হয়েছে দুর্দান্ত অভিনয়। ব্যস, মুহূর্তেই কেড়ে নিলেন দর্শকদের মন। ২৬ বছর বয়সী এই কিশোরী ক্যারি মুলিগানকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
২০০৫
সালে ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ ছবিতে কিটি বেনেথের ভূমিকায় অভিনয় করে হলিউডে পা ফেলেন ক্যারি। এরপর ‘বিলক হাউস’ টেলিভিশন সিরিজের বেশ কয়েকটি পর্বে অভিনয় করেন। পরের বছরই আগাথা ক্রিস্টির ‘মার্পল টু’তে কাজ করে নজর কাড়েন সবার। এর পরই আবার সুযোগ মেলে টিভি সিরিজ ‘দি অ্যামাজিং মিস্টার প্রিচার্ড’-এ। একে একে হয়ে যায় ‘ওয়াকিং দ্য ডেড’, ‘নর্থেনজার অ্যাবি’, ‘ড. হু’র পর্ব ‘বিলংক’। ‘দ্য গ্রেটেস্ট’ ও ‘অ্যান এডুকেশন’-এর পর বড় মারকুটে ছবিটি হলো ‘পাবলিক এনিমিস’, যেখানে জনি ডেপের বান্ধবীর চরিত্রে অভিনয় করে অন্যদের ছোটখাটো ধাক্কা দিয়ে যান ক্যারি মুলিগান। এরপর পরিচালক জিম শেরিডানের ‘ব্রাদার্স’ তাকে তুলে ধরে আরও খানিকটা। এখন রিলিজের অপেক্ষায় আছে ‘ওয়ালস্ট্রিট :মানি নেভার স্লিপ’, ‘নেভার লেট মি গো’ ও ‘মাই ফেয়ার লেডি’। হলিউডের তারকা পরিচালক অলিভার স্টোন তো বলেই দিলেন, মায়ের পেট থেকেই অভিনয়বিদ্যা শিখে এসেছে ক্যারি। এটা তার সহজাত প্রতিভা। সম্ভবত গত বছরের ‘অ্যান এডুকেশন’ দেখেই কথাটা বলেছেন স্টোন। ক্যারি তাতে টিনএজারের ভূমিকায় অভিনয় করেন, যে প্রেমে পড়ে তার চেয়ে দ্বিগুণ বয়সের এক লোকের। লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে জন্ম ইংরেজ অভিনেত্রী ক্যারি হান্নাহ মুলিগানের। ১৯৮৫ সালে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী বেড়ে ওঠেন লন্ডনের পরিবেশে। তার পরিবারে অভিনয়শিল্পী বলতে ছিলেন তার বড় ভাই ওয়েইন। একদিন ভাইকে মঞ্চে অভিনয় করতে দেখে কেঁদেকেটে অস্থির হয়ে গিয়েছিলেন ক্যারি। তা দেখেই নাটকের পরিচালক তাকে উঠিয়ে দিলেন মঞ্চে। বলেছিলেন, ‘যাও, তুমি তো ওয়েইনের বোন, আশা করি পারবে।’ ওটাই ছিল প্রথম। মজার অথবা করুণ ব্যাপারটি হলো, অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন ক্যারি। কিন্তু পর পর তিনটি স্কুল তাকে প্রত্যাখ্যান করে। তাদের মতে, ক্যারিকে দিয়ে নাকি অভিনয় সম্ভব নয়! শুনে বেশ মুষড়ে পড়েছিলেন। সেই সাথে ছিল পরিবারের আপত্তি। এত বাধার কারণেই ক্যারি বুঝতে পেরেছিলেন, অভিনয়কে তিনি কতটা ভালোবেসে ফেলেছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সুপারিশেই ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ ছবিতে সুযোগ পান মুলিগান। অনেক খাটতে হয়েছে এরপর। সমালোচকরাও যেন প্রশংসার ঝুড়ি নিয়ে বসে ছিল তার জন্য। ‘অ্যান এডুকেশন’ তাকে এনে দিয়েছে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি বাফটা অ্যাওয়ার্ড। এ ছাড়া পেয়েছেন স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডসের মনোনয়ন। ‘ওয়ালস্ট্রিট :মানি নেভার স্লিপস’-এ সহ-অভিনেতা শিয়া লাবিউফের সঙ্গে পরিণয়ের সূত্রপাত ২০০৯ সালের আগস্টে। ‘মাই বয় জ্যাক’-এ অভিনয়টা বেশ উপভোগ করেছেন। সম্প্রতি তিনি ‘ড্রাইভ’ নামের একটি সিনেমা করেছেন, যেটি বেশ কিছুদিন হলিউড টপ চার্টে অবস্থান করছিল।
