পঞ্চগড়ে সৌর বিদ্যুত্ চালিত সেচপাম্প ব্যবহারে সাফল্য

আপডেট : ১৪ মে ২০১৪, ২১:৪৭
প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুত্ সংযোগের ব্যবস্থা না থাকায় অথবা সংযোগ থাকলেও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকার কারণে কৃষি ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় অনেক এলাকায় বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম পঞ্চগড় সদর ও বোদা উপজেলা। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে এই দুই অঞ্চলের কৃষকরা সেচ পাম্প চালিয়ে কৃষিতে যথেষ্ট সাফল্য লাভ করছে। বেংহারী গ্রামের কৃষক লুত্ফর রহমান জানান, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা এবং বোদা উপজেলার শিকারপুর, জগন্নাথপুর, বেংহারী ও তেপুকুরীয়া গ্রামের কৃষি নির্ভর এলাকায় সেচ সুবিধা খুব সহজলভ্য ছিল না। ফলে পর্যাপ্ত সেচের অভাবে অনেক জমি অনাবাদী থাকতো। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় সৌর বিদ্যুত্ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেচ পাম্প চালাচ্ছেন এ গ্রামের কৃষকরা। বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী করতোয়া নদী থেকে এবং গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভ থেকে পানি তুলে জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। এতে আলাদা কোন জ্বালানি প্রয়োজন না হওয়ায় উত্পাদন খরচ অনেকাংশে কমে গেছে। পঞ্চগড় সদর ও বোদা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ১০টি সমিতির মাধ্যমে ১৬টি সেচ এলাকায় ৫শ’ জন কৃষক ২ হাজার বিঘা জমিতে এবার বোরো চাষ করেছেন কৃষকরা। সৌর বিদ্যুত্ চালিত সেচ যন্ত্রের সাহায্যে জমিতে সেচ দিয়ে কম খরচে ভাল ফলন পেয়ে অত্যন্ত খুশি তারা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক সৌর বিদ্যুত্ চালিত সেচ পাম্প স্থাপনের পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার কৃষকদের মাঝে মত্স্য চাষ, গবাদিপশু পালন ও কৃষি কাজের জন্য প্রায় ১২ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করেছে বলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের কো-অর্ডিনেটর জয়নুল আবেদীন লাবু জানান। কৃষকদের সাফল্যের কারণে এ বছর সমিতিভুক্ত আরো ৬টি সৌর সেচ পাম্প স্থাপন করা হবে বলে ব্যাংকের ইরিগেশন প্রজেক্ট ম্যানেজার জানান। জানা গেছে, একটি সৌর বিদ্যুত্ চালিত পাম্প স্থাপনে ৩২ লাখ টাকা ব্যয় হয়। পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, সমবায় ভিত্তিতে অধিকতর সহজ শর্তে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা গেলে পঞ্চগড়ে বৃদ্ধি পাবে সৌর বিদ্যুত্ চালিত সেচের আওতা। নিশ্চিত হবে খাদ্য নিরাপত্তা, লাভবান হবেন কৃষক।