সামপ্রতিক সময়ে রোগী সেবাকে কেন্দ্র করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) উদ্যোগে গতকাল বুধবার দেশের সকল হাসপাতাল ও চিকিত্সাসেবা প্রতিষ্ঠানে কালোব্যাজ ধারণ করে এক থেকে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন চিকিত্সকরা। এদিকে এই কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রামসহ অনেক স্থানে চিকিত্সা না পেয়ে শত শত রোগী বিপাকে পড়েন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক চিকিত্সক মানববন্ধনে অংশ নেন। বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত চলা এ মানববন্ধনে বিএমএ সভাপতি ডা. মাহমুদ হাসান বলেন, আমরা কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ চাই। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে চিকিত্সকদের পক্ষে কর্মস্থলে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। তিনি অবিলম্বে চিকিত্কদের ওপর হামলাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়ার দাবি জানান।
বিএমএ’র মহাসচিব ডা. ইকবাল আর্সলান ও সহ-সভাপতি অধ্যাপক কামরুল হাসান খানসহ বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিত্সকরা এতে অংশ নেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার সব বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের প্রাইভেট চেম্বারে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হবে।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, চিকিত্সকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কালো ব্যাজ ধারণ করে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রামের চিকিত্সকরা। বেলা ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা এ কর্মসূচি চলে। চিকিত্সকরা হাসপাতাল ফেলে মানববন্ধন কর্মসূচিতে যোগ দেয়ায় চমেক হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা শত শত রোগী বিপাকে পড়েন। এসময় বহির্বিভাগের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও চিকিত্সকরা কাজে যোগ না দেয়ায় শিশু, নারীসহ অনেক গুরুতর অসুস্থ রোগীকে চিকিত্সা না নিয়েই হাসপাতাল ত্যাগ করতে দেখা গেছে।
চমেক হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনের রাস্তায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা চিকিত্সকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করেন। চিকিত্সকদের সাথে সাংবাদিকদের বিরোধ সৃষ্টির জন্য একটি মহল অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডা. মাহবুব আলম, ডা. সেলিম মোহাম্মদ প্রমুখ।
