বিজেপি’র অতি আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই

আপডেট : ১৪ মে ২০১৪, ২৩:৩৫
ভারতের ১৬তম লোকসভা নির্বাচনে বিভিন্ন সংস্থা এবং গণমাধ্যমের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। জরিপের এই ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উজ্জীবিত ভাব লক্ষ্য করা গেছে। দলটি সরকার গঠন নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি’র অতি আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ ২০০৪ সালেও এমন জরিপ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠন করেছিল কংগ্রেস। দ্য টাইমস নাউ-ওআরজি’র বুথফেরত জরিপ এনডিএকে ২৬৫টি আসন দিয়েছে। লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভে বাকি মাত্র সাতটি আসন। কংগ্রেস এবং এর মিত্রকে দিয়েছে ১৪৮টি আসন। বাকি দলগুলো পাবে ১৪৬ আসন। সিএনএন-আইবিএন-সিএসডিএস’র বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, এনডিএ ২৭০ থেকে ২৮২ আসন পাবে, যেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ পাবে ৯১ থেকে ১০২ টি এবং অন্যান্য দল পাবে ১৫৯ থেকে ১৮১ আসন। ইন্ডয়া টিভি- সি ভোটারের সমীক্ষা মতে, বিজেপি এবং তার মিত্ররা ২৮৯টি আসন, অন্যান্য দল ১৫৩ টি আসন এবং কংগ্রেস ও তার মিত্ররা পাবে ১০১ টি আসন। দ্য ইন্ডিয়া টুডে’র জরিপে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ২৬১ থেকে ২৮৩টি আসন পাবে বিজেটি নেতৃত্বাধীন জোট। ইউপিএ ১১০ থেকে ১২০টি এবং অন্যান্য দল ১৫০ থেকে ১৬২টি আসন পাওয়ার আশা আছে। জরিপকারী সংস্থা এবিপি নেলসনের বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন ২৭২টি পাবে, ইউপিএ ১১০ টি এবং অন্যান্য দল ১৬১ টি আসন পাবে। তবে একটি জরিপে বলা হয়েছে, এনডিএ ৩৪০টি আসন পাবে। এখানে বিজেপিই পাবে ২৯১টি আসন। এখানে কংগ্রেসকে ৭০ এবং অন্যান্য দলকে ১৩৩ আসন দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার জরিপে বিজেপি এবং তার জোটকে এত বেশি আসন দেওয়া হলেও ভারতের নির্বাচনে বরাবরই বিস্ময়কর ফল পাওয়া গেছে। ২০০৪ সালের নির্বাচন, বিভিন্ন সংস্থার জরিপ এবং পরবর্তীতে ফলাফল বিশ্লেষন করলে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই আগামীকাল শুক্রবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হলে এসব জরিপের তথ ভুল প্রমাণিতও হতে পারে। হতাশ হয়ে পড়তে পারে অতি আশাবাদী বিজেপি। আর এই অতি আশাবাদী ভাবটা ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত থাকবে! কারন নির্বাচনের শেষ দিকে বিজেপি’র নির্বাচনী কৌশল যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। নির্বাচনের শুরুতে প্রচারে যে গতি ছিল মাঝে এসে সেই গতি হারিয়েছিল। এই সময় বিজেপি’র ভোট ব্যাংকে লালু প্রসাদ যাদবে রাষ্ট্রীয় জনতা দল, মুলায়েম সিং যাদবের বহুজন সমাজবাদী পার্টি এবং মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি ঢুকে পড়ে। এটা বিজেপি’র জন্য যথেষ্ট হুমকি নয়। তবে ভারতের রাজনীতিতে অনেক সময়ই আশ্চর্যজনক কিছু ঘটার নজির রয়েছে। আঞ্চলিক দলগুলোই আশ্চর্যের কারণ হতে পারে। দ্বিতীয়ত, যদিও এখনো বিজেপি একক বড় দল হিসেবে আবির্ভুত হচ্ছে, তবু তারা মিত্রদের নিয়ে একত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন যে পাবে সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এক্ষেত্রে অনেক বাধা আছে। র্নিবাচনে কংগ্রেস যা আশা করেনি তার চেয়ে বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। এমনিক কংগ্রেস তাদের ধারণার চেয়ে ৩০ আসন বেশি পেলেই বিজেপি’র জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। ফলে অতি আশাবাদীতাই বিজেপি’র জন্য বড় ধরনের আঘাতে পরিণত হতে পারে। কেউ এই নিশ্চয়তা দিতে পারে না যে, বিজেপি’র নির্বাচন পূর্ববর্তী জোট নির্বাচনের পরও টিকে থাকবে। বিজেপি প্রথমে ‘উন্নয়ন’ এবং ‘সুশাসন’ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও পরে সেটা হিন্দুত্ববাদীতার দিকে মোড় নেয় যা ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের কাছে পছন্দ হয়নি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিজেপিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে কংগ্রেস, এবং তার মিত্র, বামপন্থী দলসহ অনেকে একত্র লড়াই করেছে। সুতরাং বিজেপিকে অতি আশাবাদী না হয়ে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয় হবে।