চট্টগ্রামে জামায়াতের হরতালে অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি

আপডেট : ১৪ মে ২০১৪, ২৩:৩৭
দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বৃহত্তর চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে নগরীর কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নগরীর কোথাও হরতালের সমর্থনে জামায়াত কর্মীদের পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। তবে নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করে নগরীর কয়েকটি স্থানে মিছিল করে শিবির। এইচএসসি পরীক্ষা হরতালের আওতামুক্ত থাকলেও রাস্তায় যানবাহন সংকটের কারণে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ হলেও ট্রাকের অভাবে বন্দরের বাইরে ডেলিভারি হয়নি। যাত্রীস্বল্পতা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। দূরপাল্লার বাস চলাচল করেনি। হরতালে নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয় বিজিবিকে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে শিবিরকর্মী সন্দেহে পুলিশ ১০ জনকে আটক করে। গত সোমবার নগরীর দেওয়ানবাজার এলাকায় দলীয় কার্যালয় থেকে মহানগর আমীর ও সেক্রেটারিসহ জামায়াতের ২১ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। প্রতিবাদে বুধবার বৃহত্তর চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করে মহানগর জামায়াত। এদিকে আটক নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাস দমন আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে গত মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। বান্দরবানে নিরুত্তাপ হরতাল বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানে জামায়াতের ডাকা হরতাল কর্মসূচি নিরুত্তাপ ভাবে পালিত হয়েছে। হরতালে বান্দরবানে মাঠে নামেনি জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই বান্দরবানে শহর ছেড়ে যায়নি চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দূর পাল্লার কোনো যানবাহন। হরতালের কারণে বন্ধ রয়েছে কেরানীহাট, রাঙামাটিসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যাত্রীবাহী বাস চলাচল। জেলা শহরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক। হরতালে মুষ্টিমেয় মার্কেটের দোকানপাঠ বন্ধ থাকলেও অফিস-আদালত এবং ব্যাংক-বীমায় কাজকর্ম চলেছে স্বাভাবিক নিয়মে। এদিকে হরতালের সমর্থনে বান্দরবানে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা কোনো মিছিল-মিটিং করেনি। সকাল থেকেই নেতা-কর্মীদের মাঠে নামতে দেখা যায়নি। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বান্দরবানে পুলিশসহ বিপুল পরিমাণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাতকানিয়ায় হরতাল মাঠে নেই নেতা-কর্মী সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, সাতকানিয়ায় কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই হরতাল পালিত হয়। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে কয়েকটি অটোরিকশা ছাড়া আর কোন যান চলাচল করতে দেখা যায়নি। তবে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক-বীমা ইত্যাদিতে লেনদেন ছিল স্বাভাবিক। কেরানীহাট এলাকায় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সামনের মূল ফটক বন্ধ থাকলেও পিছনের দরজা দিয়ে গ্রাহক চলাচল করেছে। কোথাও গাড়ি ভাংচুর হয়নি।