নাটোরে নন্দকুঁজা নদী ভরাট করে গুরুদাসপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শহর সম্প্রসারণ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে নদীটি সংকুচিত হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি চলছে বর্জ্য ফেলে নদী দূষণ।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নন্দকুঁজা নদীর চাঁচকৈড় বাজার এলাকার সাহাপাড়া মসজিদ থেকে ধানহাটা মসজিদ পর্যন্ত এলাকায় ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে নদী ভরাটের কাজ চলছে। নদীর প্রায় ৬০ ফিট প্রস্থ ও ৪০০ মিটার দীর্ঘ এলাকা জুড়ে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। ভরাটের মাটি নেওয়া হচ্ছে নদী থেকেই। এতে প্রমত্তা নদীটি এখন নালায় পরিণত হয়েছে। গত ৫ মে থেকে এই ভরাটের কাজ চললেও দেখার কেউ নেই। তবে পৌরসভার প্রকৌশল অফিস সূত্র দাবি করছে, নদীর ৪০ ফিট প্রস্থ ও ২০০ মিটার দীর্ঘ এলাকায় তীর ভরাটের কাজ চলছে।
গুরুদাসপুর পৌরসভা যে নন্দকুঁজা নদীর ওই অংশই ভরাট করছে তা নয়, নদীটির চাঁচকৈড় বাজারের রসুন হাট, সাহাপাড়া ঘাট, বামনকোলা ও গুরুদাসপুর বাজার ঘাট এলাকায় নির্বিচারে ফেলা হয়েছে আবর্জনা। দুর্গন্ধে এসব এলাকায় থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নদীতে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এসব আবর্জনার দুর্গন্ধে তারা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে দুঃখ হয়, চোখের সামনে নদীটি ভরাট হতে দেখে। সেই সাথে নদীর পানিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠছে বলে তারা জানান।
গুরুদাসপুরস্থ চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মজনু বলেন, উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীকে ঘিরেই এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে। হঠাত্ করেই পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নদী দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন -এটা দুঃখজনক। এর বিরুদ্ধে সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
‘নদী ভরাট হলে ক্ষতি কি ?’
গুরুদাসপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র (প্যানেল মেয়র) মোছা. রুনা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘পৌরসভার নিজস্ব কোন জায়গা নেই। অথচ পৌরসভার প্রধান আয় আসে চাঁচকৈড় হাট-বাজার থেকে।
ব্যবসায়ী ও জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতেই নদীর তীরে মাটি ভরাট করে শহর সম্প্রসারণ করতে হচ্ছে।’ তবে তিনি দাবি করেন, উভয় পাশ-দখল হওয়ায় নদীটি সংকুচিত হয়ে গেছে। আগের মত নৌকা চলে না। তাই নদী ভরাট হলে ক্ষতি কি? পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
শাহনেওয়াজ আলী দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ নেওয়াজ বলেন, তিনি পৌরসভার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন।
