মেরাজের ঘটনাটি ইসলামের প্রথম যুগে এমন এক সময়ে সংঘটিত হয় যখন নবী করিম (স.) তাওহীদকে বুলন্দ করার বার বত্সর অতীত হওয়ার পর। বিধর্মীরা তার ধর্ম প্রচারের কাজে বাধা দেয়া স্বত্ত্বেও তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচার করে যাচ্ছিলেন। ইসলামের দাওয়াত মক্কার লোকরা দলে দলে গ্রহন করতে থাকে। তেমনি এসময় মেরাজ সংঘটিত হয়। মহানবী (স.) এর জীবনে মেরাজ একটি সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা বা মুজিজা। মেরাজের সন তারিখ নিয়ে ওলামায়ে কিরামদের মধ্যে মতোবিরোধ রয়েছে। তা স্বত্ত্বেও এই শতাব্দির বা তারও আগের শতাব্দীর ওলামায়ে কিরামদেরও মেরাজ সম্পর্কে সর্বশেষ সিদ্বান্ত হয় রজব মাসের ২৭ তারিখ মেরাজ সংঘটিত হয়। মেরাজের মূল
উদ্দেশ্য ছিল নবী (স.) কে আল্লাহর মহিমার কীর্তিকলাপ দেখানো। যেহেতু মহানবী (স.) দুনিয়া বাসীদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেবেন। তাদেরকে বেহশত ও দোজখের কথা বলবেন। কিন্তু কোন বস্তু সম্পর্কে দেখে বলা আর না দেখে বলার মধ্যে পার্থক্য আছে। তাই মেরাজের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনাদি বেহশত, দোজখ, বেহশতের নেয়ামত, দোজখের আযাব, ফেরেস্তা, আসমান, আরশ-কুরসী মালায়ে আলা প্রভৃতি প্রত্যক্ষ করিয়ে দেয়ার জন্য এই মেরজের ঘটনা ঘটেছিল। নবী (স.) ইসরা বা মেরাজ সফর জাগ্রত অবস্থায় করেন। স্বপ্নে নায়। মক্কা মোকারমা থেকে বাইতুল মোক্কাদাস পর্যন্ত এ সফর বোরাক যোগে করে। বায়তুল মোকাদ্দাসের দ্বারে উপনীত হয়ে তিনি বোরকটি অদূরে বেধে দেন এবং বায়তুল মোকাদ্দাসের মসজিদে প্রবেশ করেন এবং কেবলার দিকে মুখ করে দু’রাকাত তাহিয্যাতুল মসজিদের নামাজ আদায় করেন। তারপর সিড়ি আনা হয় যাতে নীচ থেকে ওপরে যাওয়ার জন্য ধাপ বানানো ছিল। তিনি সিড়ির সাহায্যে প্রথমে প্রথম আকাশে অত:পর অবশিষ্ট আকাশ সমূহে গমন করেন। প্রত্যেক আকাশে সেখানকার ফেরেশতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানায় এবং প্রত্যেক সে সমস্ত পয়গম্বরের সাথে সাক্ষাত হয়। যাদের অবস্থান কোন নিদিষ্ট আকাশে রয়েছে। ষষ্ঠ আকাশে হযরত মূসা (আ.), সপ্তম আকাশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর সাথে নবী করিম (স.) এর সাক্ষাত ঘঠে। তারপর তিনি পয়গম্বরগনের স্থান সমূহ অতিক্রম করে এক ময়দানে গিয়ে পৌঁছেন। সেখানে ভাগ্য লিপি লেখার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তিনি সিদরাতুল মুনতাহা দেখেন, ফেরেশতারা স্থানটিকে ঘিরে রেখেছিল। এখানে রসূল (স.) জিব্রাঈল (আ.) কে তাঁর স্বরূপে দেখেন। তিনি বায়তুল মামুর দেখেন। বায়তুল মামুর এর পাশেই কাবার প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইব্রাহিত (আ.) প্রাচীরের সাথে হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। এই বায়তুল মামুর ভেতরে দৈনিক সত্তর হাজার
ফেরেশতা প্রবেশ করে। রসূল (স.) স্বচক্ষে জান্নাত এবং দোজখ পরিদর্শন করেন। সে সময় তাঁর উম্মতের জন্য প্রথমে দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে। অত:পর নবী করিম (স.) এর অনুরোধে মহান আল্লাহতাআলা উম্মতদের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারন করে দেন। আল্লাহর নির্ধারিত সমস্ত ইবাদতের মধ্যে নামাজের গুরুত্ব এবং শ্রেষ্ঠত্ব সর্বাধিক। তারপর তিনি বায়তুল মোকাদ্দাসে ফিরে আসেন এবং বিভিন্ন আকাশে যেসব পয়গম্বরের সাথে সাক্ষাত হয়েছিল তাঁরাও তাঁর সাথে বায়তুল মোকাদ্দাস এ অবতরণ করেন। তাঁরা এখান পর্যন্ত এসেছিলেন নবী করিম (স.) কে বিদায় জানানোর জন্য। এ সময় নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ায় নবী করিম (স.) পয়গম্বরদেরকে নিয়ে নামাজ আদায় করেন। সেটা ছিল সেদিনকার ফজরের নামাজ। মহানবী (স.) এর ইমামতিতে সমস্ত পয়গম্বরগণ নামাজ আদায় করেন। তারপর তিনি বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে বিদায় নেন এবং বোরাকে সওয়ার হয়ে অন্ধকার থাকতেই মক্কা মোকাররমা পৌঁছে যান। এভাবেই নবী করিম (স.) এর জীবনে মেরাজের ঘঠনা ঘটেছিল।
