ঐতিহ্য প্রকাশনীর গালি অভিধান

পড়ুন, তবে উচ্চারণ করে নয়!

আপডেট : ১৫ মে ২০১৪, ২০:৩৫
গালি অভিধান সংকলন ও সম্পাদনা : আবদুল মান্নান স্বপন প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ প্রকাশক : ঐতিহ্য প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০১৪ মূল্য : ৪৫০ টাকা গালি বলতে আমরা সাধারণত যা বুঝে থাকি তা হলো—ক্ষুব্ধ কেউ যখন ভাষার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে এবং বিপক্ষও ক্ষুব্ধ হয় তখনই সে ভাষা বা শব্দ গালি রূপে গণ্য হয়। বলা যায়, গালি হচ্ছে Sense কেন্দ্রিক। গালি হিসেবে ব্যবহূত শব্দ-বাক্য অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়। ভাষাবিদগণ এ ধরনের শব্দকে অশ্লীল শব্দ, ইতর শব্দ, গালি, বদবুলি, বদকথা, জনবুলি, অপভাষা, অকথ্যভাষা ইত্যাদি নানা অভিধায় অভিহিত করলেও শব্দগুলো বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। প্রকৃত অর্থে যে শব্দটি Slang হসেবে বেশি পরিচিত তার একটি যথার্থ প্রতিশব্দ আজও পাওয়া যায়নি। ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি ভাষায় গালি বা Slang বিষয়ে প্রচুর কাজ হলেও বাংলাদেশ এক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। সম্প্রতি এদেশে আব্দুল মান্নান স্বপন গালি বিষয়ক এক অনন্যসাধারণ অভিধান হাজির করেছেন পাঠক সমীপে। অভিধানটি প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ঐতিহ্য’। উল্লেখ্য, বাংলা ভাষার গালি বিষয়ে গত দুই দশক যাবত্ কলকাতায় কিছু গবেষণাধর্মী কাজ সম্পন্ন হলেও তা শুধু কলকাতাকেন্দ্রিক গালির মান্য শব্দ নির্ভর। একথা অনস্বীকার্য যে, যেকোনো অভিধান সংকলন নিরন্তর পরিশ্রমলব্ধ কাজ। আলোচ্য অভিধানটিও সংকলক ও সম্পাদকের তিন বছরের গবেষণার ফল। অভিধানটিতে এলাকাভিত্তিক গালির শব্দগুলোর বানান উচ্চারণ অনুযায়ী করা হয়েছে এবং গালির অনেক শীর্ষশব্দ অভিধান বহির্ভূত হওয়ায় সম্পাদক নিজস্ব ধারণা থেকে উপস্থাপন করেছেন। প্রতিটি এলাকার গালির শব্দের প্রয়োগ সংশ্লিষ্ট এলাকার উপভাষার বাক্যে দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশের বৃহত্তর জেলাকে একটি ইউনিট ধরে বাংলাদেশকে ১৬টি অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি জেলার নামের আদ্যাক্ষর; কলকাতার নামের আদ্যাক্ষর এবং বাংলাদেশের ১১টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের নামের আদ্যাক্ষরের মাধ্যমে গালির শব্দটি কোন অঞ্চলে প্রচলিত তা দেখানো হয়েছে। অভিধানটিতে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় গালির যে প্রয়োগ আছে তা-ও দেখানো হয়েছে। প্রাচীন যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের যেসব গ্রন্থে গালি ব্যবহূত হয়েছে তার প্রয়োগ সংশ্লিষ্ট গালির শীর্ষশব্দের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে উদ্ধৃত বাক্যগুলোর বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে পাঠক প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগের বানানরীতি সম্পর্কেও কিছুটা ধারণা পাবে। অপরদিকে, প্রাচীন ও মধ্যযুগের কিছু শব্দ বর্তমানে ব্যবহূত না হওয়ায় অনেক শব্দের অস্তিত্বের ধারণা পাঠককে সন্দিহান করে তুলতে পারে। সম্পাদকের ভাষ্যমতে, ‘সংগৃহীত গালির শব্দগুলোর আঞ্চলিক উচ্চারণে বানান সংশোধন এবং প্রয়োগকৃত বাক্যের কাজটি সংশ্লিষ্ট এলাকার বিজ্ঞজন অত্যন্ত ধৈর্য্য ও অক্লান্ত পরিশ্রম করে সম্পাদনা করেছেন।’ অভিধানটি সচেতন পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হবে বলে মনে করি। ব্যতিক্রম অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই অভিধান সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে বাংলা ভাষাপ্রেমী হিসেবে সাধুবাদ জানাই।