বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করছে সামাজিক বনায়ন

আপডেট : ১৫ মে ২০১৪, ২২:১০
সামাজিক বনায়ন বরেন্দ্র অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছে। অনাবাদি ও পতিত জমি, পুকুরপাড়, রাস্তার ধার, রেললাইনের পাশ, বাঁধের ধার ও চরাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে সবুজ বনায়নের সমারোহ গড়ে তুলেছে বনবিভাগ। আশির দশক থেকে জনসাধারণের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করা হচ্ছে। রাজশাহী অঞ্চলে সামাজিক বনায়নের সড়ক-মহাসড়কগুলো বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের কাছে যেন গহীন অরণ্যে প্রবেশের পথ হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। জানা গেছে, ফারাক্কার মাধ্যমে একতরফাভাবে পদ্মার পানি প্রত্যাহার, অতিরিক্ত ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত হ্রাস পাওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই অঞ্চলের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় বন বিভাগের বনাঞ্চল ও বাগান বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য সামান্য হলেও আশীর্বাদ হয়েছে। এছাড়া জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পশু পাখি আবাস গড়ে তুলছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের অধীনে গত মাসে নওগাঁর পত্মীতলা ও ধামুইরহাট উপজেলার ২৮২ উপকারভোগীদের মাঝে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকার লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পত্মীতলা উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, সোহরাব আলী ৮ লাখ ১২ হাজার টাকা ও কামরুজ্জামান ৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা পেয়েছেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ফরাদপুর এলাকার পদ্মার চরের উপকারভোগী আবু তাহের বলেন, চরের বাগান থেকে তারা জ্বালানি পাচ্ছেন ও সাথী ফসল করে লাভবান হচ্ছেন। চর বনায়নের ফলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়ন হয়েছে। একই এলাকার আরেক উপকারভোগী আলাউদ্দিন বলেন, পদ্মার চরে বনায়ন করে সবুজের সমারোহ ঘটানো হয়েছে । রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র বলেন, সামাজিক বনায়নের আওতায় বৃহত্তর রাজশাহীর ৪টি জেলার ৩টি সামাজিক বনায়ন জোন অফিসের অধীনে সামাজিক বন বিভাগ ২০০৯-১০ সাল থেকে ২০১৩-১৪ সালের ৩০ এপ্রিল মাস পর্যন্ত ষ্ট্রিপ বাগান করেছে ১ হাজার ২১৩ কিলোমিটার, উডলট বাগান করেছে ৩শ’ হেক্টর জমিতে, চর বনায়ন করেছে ২৭১ হেক্টর জমিতে, গালিজ বাগান রয়েছে ২শ’ কিলোমিটার, আম বাগানে গাছ রয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৯৬টি, খয়ের বাগানে গাছ রয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২২টি, লাক্ষা (কুল) বাগানে গাছ রয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৮৯টি।