ভারতের ১৬তম লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়ী হলে সমর্থন দিতে পারে আঞ্চলিক দল। তবে এই সমর্থন হতে পারে শর্তযুক্ত। কয়েকটি দলের নেতাদের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। অথচ দলগুলো এক সপ্তাহ আগেও বিজেপি’র প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনায় মুখর ছিল।
আজ শুক্রবার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। বুধবার ওডিসার বিজু জনতা দল (বিজেডি) এবং তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার এআইএডিএমকে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন দিতে পারেন। তবে এআইএডিমএমকে’র যে নেতা বিজেপিকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সেই নেতাকে গতকাল বৃহস্পতিবার দল থেকে বহিষ্কার করেছেন জয়ললিতা। দুই দলের দুই নেতা জানান, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার গঠন করতে পারলে তাদের দল সমর্থন দিতে পারে। তাদের নিজ নিজ দলের সঙ্গে এমন বোঝাপড়া বিজেপি’র হয়েছে। বিজেডি’র নাভিন পাটনায়েক এবং এআইএডিএমকে’র জয়ললিতা বিজেপিকে সমর্থনের ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দেননি। দুই দলের জুনিয়র নেতাদের কাছ থেকে সমর্থনের বক্তব্য এসেছে। এসব নেতাদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে, বিজেপি’র সঙ্গে দলগুলোর ভেতরে ভেতরে আলোচনা চলছে। পাটনায়েক বলেছেন, বিজেপি’র সঙ্গে আমাদের কোনো কথা হয়নি। আমরা এনডিএকে সমর্থনের ব্যাপারে কোনো আলোচনাও করিনি। আমরা কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয় দল থেকে সমদূরত্ব বজায় রাখছি।
ফলাফল ঘোষণার আরো ৪৮ ঘন্টা সময় বাকি। আমরা ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছি। আর জয়ললিতা বলেছেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি। চেন্নাইয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি ১৬ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই। এই বক্তব্য দিয়েই ক্ষান্ত হননি জয়ললিতা। তিনি তার দলের এমপি কে মলয়সামিকে দল থেকে বহিষ্কারও করেছেন। এই নেতা বুধবার বলেন, জয়ললিতা মোদীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও মোদী প্রধানমন্ত্রী হলে এই মতপার্থক্য দূর হতে পারে।
বিজেডি নেতা প্রভাত ত্রিপাঠি বলেন, বিজেডি আগে এনডিএ’র সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাই তাদের মধ্যে আবার সম্পর্ক তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। দেশের স্বার্থে বিজেপিকে শর্তযুক্ত সমর্থন দিতে পারে বিজেডি। ত্রিপাঠির সহকর্মী এবং দলটির এমপি জয় পান্ডা ও একই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ওডিসার আর্থিক মর্যাদা যদি বৃদ্ধি করা হয় তাহলে মোদীকে সমর্থন দিতে পারে বিজেডি। বিস্ময়কর মন্তব্য এসেছে কংগ্রেস দলের অন্যতম মিত্র কংগ্রেস ন্যাশনালিস্ট পাটির্র (এনসিপি) নেতা প্রফুল প্যাটেলের কাছ থেকে। তিনি বলেন, দিল্লিতে স্থিতিশীল সরকার দরকার। আর সেক্ষেত্রে এনসিপি বিজেপি’র প্রতি সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। পাটনায়েক এবং জয়ললিতা উভয়ই কিন্তু কংগ্রেস ও বিজেপিকে বাদ দিয়ে তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের পক্ষে। তবুও দলগুলোর নেতাদের বক্তব্য বিজেপিকে কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করেছে। বিজেপি’র এক সিনিয়র নেতা বলেন, আমরা প্রয়োজনীয় আসন পেলেও জোটকে শক্তিশালী করতে এবং কংগ্রেসকে বিচ্ছিন্ন করতে এসব দলকে স্বাগত জানাবো।
বিজেপি মুখপাত্র শাহনেওয়াজ হোসাইন বলেন, কংগ্রেস সহজে মিত্রতার সম্পর্ক গড়ে তুললে বিজেপি’র জন্য উদ্বেগের। তাই কংগ্রেসকে দুর্বল করতে সুযোগ গ্রহণ করবে এবং বিজেপি’র দরজা সবার জন্য খোলা বলেও মন্তব্য করেন মুখপাত্র।
