সোনিয়ার নৈশভোজে রাহুলের অনুপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন

আপডেট : ১৫ মে ২০১৪, ২৩:৩৪
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে দেওয়া কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর নৈশভোজে দলের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীর অনুপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো রাহুলের সমালোচনায় মেতে উঠেছে। যদিও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মনমোহন সিংয়ের অনুমতি নিয়েই রাহুল গান্ধী বাইরে গেছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। বুধবার রাতে মনমোহনের বিদায় উপলক্ষ্যে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন সোনিয়া গান্ধী। ভোজসভায় কংগ্রেস নেত্রী, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) সকল সদস্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিবর্গ স্বাক্ষরিত একটি মানপত্র মনমোহন সিংয়ের হাতে তুলে দেন। পি চিদাম্বরম, সুশীল কুমার সিন্ধে, সালমান খুরশিদ, জ্যোতিরাদিত্য সিন্দিয়া ও অজয় মাকেনসহ দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা দিল্লীর ১০ জনপথে আয়োজিত এ ভোজসভায় উপস্থিত ছিলেন। ভোজসভায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা সম্বলিত ওই মানপত্র পাঠ করা হয়। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা তরুণ বিজয় রাহুলের সমালোচনা করে বলেন, কোথায় কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী? তার এই অনুপস্থিতির পেছনে কী কোনো রহস্য আছে? সোনিয়া গান্ধী দলটির সাবেক সভাপতির সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করেছিলেন, রাহুল গান্ধী দশ বছর সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া মনমোহন সিংয়ের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিব সেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেন, রাহুল গান্ধী ঠিক যেন ‘শাহজাদার’ মতোই আচরণ করেছেন। যিনি দশ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেন সেই তার মতো ব্যক্তিকে যখন আপনি সময় দিতে পারলেন না তাহলে দল এবং দেশকে সময় দিবেন কিভাবে, প্রশ্ন করেন ওই মুখপাত্র। আম আদমি পার্টি (এএপি) নেতা কুমার আশুতোশ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, রাহুল দায়িত্ব নেওয়ার কাজ শিখতে প্রস্তুত নন। তবে রাহুল গান্ধীকে নিয়ে এসব সমালোচনার জবাবের পর প্রধানমন্ত্রীর অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাহুল গান্ধী গত শনিবারই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং জানিয়ে দেন যে তিনি বুধবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। সমালোচনার জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজিব শুক্লা বলেন, বিজেপি এবং শিব সেনার দিনের পর দিন গান্ধী পরিবারের সমালোচনা করাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন রাহুল গান্ধী। তাই হয়তো দুই দিনের জন্য বাইরে গেছেন এবং বৃহস্পতিবারের (গতকাল) মধ্যেই ফিরে আসবেন। লোকসভা নির্বাচনের কিছুদিন আগে দাগি জনপ্রতিনিধিদের রেহাই দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের আনা একটি অধ্যাদেশকে ঘিরে রাহুল-মনমোহনের মধ্যে প্রকাশ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। এর পিছনে রাহুলই মূল কারণ। মনমোহন সিং তখন বিদেশ সফরে। সেই সময় সাংবাদিক সম্মেলন করে রাহুল বলেন, ওই অধ্যাদেশ ছিঁড়ে ফেলা উচিত। এই ঘটনার পরে কেন্দ্র অধ্যাদেশটি ফিরিয়ে নেয় ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন উঠে যায়, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার সরকারের আনা অধ্যাদেশ সম্পর্কে কংগ্রেসের সহ-সভাপতি এই কথা বলে কি মনমোহনেরই মর্যাদাহানি করলেন না? প্রধানমন্ত্রী পরে অবশ্য বিষয়টিকে সহজ করে দেখানোর চেষ্টা করেন। এ দিনও রাহুলের অনুপস্থিতির ফলে বিতর্ক হতে পারে ধরে নিয়েই তার দপ্তর বিবৃতি প্রকাশ করে। তবু সেই বিতর্ক আটকানো যায়নি।