তারেক মাসুদই আমাদের একমাত্র উদাহরণ

আপডেট : ১৬ মে ২০১৪, ১৯:২৬
কানে আসার প্রক্রিয়া মোটেই জটিল না। অনলাইন এ ফরম পূরণ করলে কমিটি যদি আবেদনকারীকে যোগ্য মনে করে, তাহলে তাকে এক্রিডিটেশন কার্ড দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে সাংবাদিক, আভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, সমালোচকদের আলাদা কোটা রয়েছে। যে ছবি কানে নির্বাচিত, সেই ছবির অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক আমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন। হলিউড, বলিউডসহ বিশ্বের খ্যাতনামা তারকাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ‘মার্কসে দু ফিল্ম’ হলো ফিল্ম কেনাবেচার জন্য বাজার। নতুন নির্মাতা ও প্রযোজকদের খুঁজতে এখানে আসতে পারেন, সেটা কোনো জটিল বিষয় নয়। ক্রেডিট কার্ডে ৩০০ ইউরোর মতো গচ্চা দিয়ে যে কেউ এই আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। তবে তারা কানের মূল প্রোগ্রামে যোগ দিতে পারবেন না। এ বছর ‘সিনেমা দু মন্দ’-এর আওতায় বাংলাদেশের কোনো ছবি কো-প্রোডাকশনের জন্য নির্বাচিত হয়নি, এটা একটা মিথ্যাচার। তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ ছাড়া কোনো ছবি আজ পর্যন্ত কানে স্ক্রিনিং হয়নি। এই কথাগুলো বলার কারণ হলো—তারেক মাসুদের পর সত্যি সত্যি যদি কারও ছবি ভবিষ্যতে নির্বাচিত হয় তাহলে আজকের এইসব মিথ্যাচারের জন্য ভবিষ্যতের যোগ্য, মেধাবী পরিচালক হয়তো তার প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হবেন। প্যারিস শহরে সপ্তাহে ৩টি চলচ্চিত্র উত্সব হয়। আপনারা, সেখান থেকে অ্যাওয়ার্ড নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন প্লিজ। এই তথ্যগুলো আমার ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর বেশ ক’জন বাংলাদেশি নির্মাতা আমাকে ইনবক্স করেছেন। সঙ্গত কারণেই তাদের নাম উল্লেখ করছি না। তবে তারা আমাকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন তাদের নাম উল্লেখ করে যেন এখানে কিছু না লিখি। আমাদের মিডিয়াগুলো খেলা বা রাজনীতি যেভাবে কাভার করে, আমার মনে হয় এখন এই ধরনের বড় বড় ফেস্টিভ্যাল কাভার করার সময় এসেছে। তাহলে আর লুকোচুরি করে এখানে কিছু না করেও বড় বড় বুলি আওড়াতে পারবে না কেউ। অনেকক্ষণ আড্ডা হলো মেক্সিকান অভিনেতা-নির্দেশক দামিয়ান চাপার সাথে। কিছুক্ষণ আলাপ করতে সদালাপী এই মানুষটির সাথে সখ্য জমে গেল। কান উত্সব আসলে নিজের বন্ধুত্বের জানালা খোলার জন্যই এক মিলন কেন্দ্র। একারণেই তারেক মাসুদ ভাইয়েরা এত বড় বড় স্বপ্ন দেখতে পেরেছিলেন। আমাদের আলোচনাতেও তাই বারবার তারেক মাসুদের রেফারেন্স দিতে হয়। ‘মাটির ময়না’র প্রশংসা আজও শুনতে পেলাম যে সকল নির্মাতা নিয়মিত কানে আসছেন, তাদের কাছে। জার্মানির দুজন সাংবাদিকও বললেন তারেক মাসুদের কথা। বারবার তাই আমাদের এই ছোট মানসিকতার কথাই তুলে ধরতে হয়। আমরা মিথ্যাচার করে দেশের মানুষকে যেমন বিভ্রান্ত করছি, ঠিক একইভাবে তারেক মাসুদের প্রাপ্য সম্মানটুকুকেও হেয় করছি। মেক্সিকান নির্মাতা অভিনেতা দামিয়ানকে আমার তৈরি ‘পরবাসিনী’র প্রোমো ও দুটি গান দেখালাম। দারুণ প্রশংসা করলেন। এত বড় বাজেটের কাজ হয় শুনে তিনিও আগ্রহী হলেন আরও কিছু ছবি দেখার। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আলাপচারিতার এক পর্যায়ে নিজের কন্ট্রোভার্সির কথা তুলে জানতে চাইলেন, ‘আমাকে নিয়ে বাংলাদেশে সেরা গসিপ কোনটি?’ আমি বললাম। আমি কেবল শুরু করলাম। সে ধরনের কোনো গসিপ নেই। অথচ নানান নারীকেন্দ্রিক ঘটনায় এই নির্মাতা জেলও খেটেছেন। তার কথায়, ‘সেই কারাবাস না হলে আমার ভেতরে কখনও ভালো কাজের উত্সাহ জন্মাত না।’ (আগামীকাল :কান দখলে নিচ্ছে বলিউড!)