জাদু নিয়ে তারকা হওয়া সবচেয়ে কঠিন

আপডেট : ১৬ মে ২০১৪, ১৯:২৭
জাদু শিল্প নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন শিল্পী শাহীন শাহ। সম্প্রতি ইউরোপ ট্যুর শেষ করে এলেন। টানা ৮টি দেশে একাধিক শো শেষ করে দেশে ফিরে নিজের কাজ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু এখনকার ব্যস্ততা কী নিয়ে? এখন কয়েকটা কোম্পানির শো এবং স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত আছি। জুলাই মাসে দেশের বাইরে যাচ্ছি। লন্ডনে বাংলাদেশ সোসাইটির আয়োজনে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেব। আর এসএ টিভিতে প্রাণের সৌজন্যে ‘ফান অ্যান্ড লার্ন’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান শুরু করতে যাচ্ছি। আর সামনে ঈদ। ঈদের প্রোগ্রাম তো করবই। তবে এখনও ঠিক হয়নি। তারকা জাদুশিল্পী হিসেবে অনেকদিন থেকেই আপনাকে এবং জুয়েল আইচকে চিনি। নতুন কাউকে দেখা যাচ্ছে না—এই সংকটের কারণ কী? আসলে এই শিল্প কিছুটা ভিন্ন। প্রথমত ভালোবাসা এবং টিকে থাকার ইচ্ছেটা প্রবল থাকতে হবে। আর জাদু নিয়ে তারকা হওয়া সবচেয়ে কঠিন। কারণ এখানে এসে দুই দিনেই নাম-ডাক বা টাকার মুখ দেখা যায় না। এই ভীতিটা হয়তো অনেকের মাঝে কাজ করে বলেই আমরা তেমনভাবে কাউকে পাচ্ছি না। তবে নতুনরা আসছে। আমার পরিচিত কয়েকজন তরুণ ‘ইয়ুথ ম্যাজিক সোসাইটি’ নামে একটি সংগঠনও খুলেছে। আর এখানে শিক্ষিত ও মেধাবী তরুণদের বড়ই প্রয়োজন। আমাদের সাথে অনেকেই ছিল যারা তাদের মেধার অভাবে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি। আমাদের মিডিয়াগুলো কি এ ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে? আসলে টিভিতে মাঝেই মাঝেই শো হয়। তবে স্পন্সরের কারণে তা আর বেশিদিন নিয়মিত হতে পারে না। এই অনুষ্ঠানগুলোর জন্য লগ্নিকারক পাওয়া যায় না। আমি কয়েকটি শো নিজে স্পন্সর জোগাড় করে করেছি। তবে টেলিভিশনগুলোও নিজস্ব উদ্যোগে অনুষ্ঠান করতে পারে। কিন্তু তারা করছে না। সব মিলিয়ে আসলে ব্যাপারটা দুঃখজনক। রিয়েলিটি শোগুলো কি নতুন শিল্পী খোঁজার সহায়ক হতে পারে? সেটা তো অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু আমাদের কেউ তো এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে না। যেখানে অনুষ্ঠান স্পন্সর খুঁজতে এত হয়রানি হতে হয়, সেখানে একটি রিয়েলিটি শো তো বিশাল ব্যাপার। তবে আমাদের জাদু শিল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে এরকম পদক্ষেপ নেওয়াটা জরুরি। আমাদের টেলিভিশনগুলো নিজস্ব ক্ষমতায় করতে পারে। কিন্তু তাদের তাগিদ নেই। বাইরের দেশগুলো তো জাদু শিল্পে অনেক এগিয়ে। আপনি যখন বাইরে শো করতে যান প্রতিক্রিয়া কেমন পান? একবার রোমের শহীদ পার্কে শো করতে গিয়েছিলাম। সেখানে পুরো পার্ক তো বটেই, পার্কের বাইরেও মানুষের ঢল ছিল। এ রকম ভালোবাসা আসলেই আবেগপ্রবণ করে দেয়। খুব ভালো সাড়া পাই। আর বাইরের দেশের চেয়ে আমরাও এখন বেশি পিছিয়ে নেই।