এনজিওগ্রাম

আপডেট : ১৬ মে ২০১৪, ২১:৩১
একদিন সকালে জাতীয় হূদরোগ হাসপাতালের বহির্বিভাগে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক এসে বললেন, ডাক্তার সাহেব আমার বুকে মাঝে মাঝে ব্যথা হয়। হূদরোগের ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত হার্টের ওষুধ খাই। আমি জেনেছি এনজিওগ্রাম করে রিং বসালে ব্যথা চলে যায়। আপনি ব্যবস্থা করুন। ডাক্তার সাহেব উত্তর দিলেন, আপনাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করে নিচ্ছি। প্রয়েজনীয় পরীক্ষার পর আপনি উপযুক্ত হলে এনজিওগ্রাম করে রিং বসানোর ব্যবস্থা হবে। এনজিওগ্রাম করে রিং বসানোর ৩দিন পর নতুন জীবন নিয়ে ভদ্রলোক বাড়ী গেলেন। হূদপৃণ্ড মানবদেহের অত্যাবশ্যক অঙ্গ যা সমস্ত দেহে বিশুদ্ধ রক্ত ওঅক্সিজেন পৌছে দেয়। হূদপৃণ্ড নিজস্ব তিনটি করোনারী আর্টারির মাধ্যমে বিশুদ্ধ রক্ত ও অক্সিজেন পেয়ে থাকে। এই তিনটি রক্তনালীর এক বা একাধিকে চর্বি জমে সংকুচিত (ব্লক) হলেই ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ হয়। রুগী বুকে ব্যথা অনুভব করে থাকে। সাথে চাপ, শ্বাস কষ্ট বা বুক ভারী হতে পারে। এনজিওগ্রাম কি রক্তনালীতে ডাই বা স্পেশাল রং পুশ করে হূদযন্ত্রের রক্তনালী বা আর্টারির অবস্থা, ব্লক এবং শাখা প্রশাখা ইত্যাদি বোঝার পদ্ধতির নাম এনজিওগ্রাম। সাধারণতঃ কুচকির চামড়ার নিচে অবচেতনকারী ওষুধ ব্যবহার করে ফিমোরাল আর্টারীতে ১টি ছোট পথ করা হয়। এই পথ দিয়ে হূদযন্ত্রের ভিতরে সরু নল স্থাপন করে এই নল দিয়ে ডাই পাঠানো হয়। চলমান এক্সরে মেশিনের মাধ্যমে এই ডাইয়ের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হয়। হূদপৃণ্ডের রক্তনালীর গঠন, সংকোচন এবং শাখা বিন্যাস খুব সহজেই দৃশ্যমান হয়। সংকুচিত রক্তনালী বেলুন এবং রিং-এর সাহয্যে চওড়া বা প্রসারিত করে হূদযন্ত্রের রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়। সমস্ত প্রক্রিয়া ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়। এনজিওগ্রাম কখন করতে হয় ১. ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ হলে। ২. হার্ট এটাক (মায়োকার্ডিয়াল ইফার্কশন বা আনষ্টেবল এনজাইনা এর পর)। ৩. বুক ব্যথার কারণ নির্ণয়ের জন্য (এটিপিক্যাল চেষ্ট পেইন)। ৪. ইটিটি পজিটিভ হলে। ৫. হার্টের ভাল্ব বা অন্য অপারেশনের পূর্বে । এনজিওগ্রামের পূর্ব প্রস্তুতি এনজিওগ্রামের পূর্বে রোগীকে দৈহিক ও মানসিকভাবে ফিট হতে হবে। রক্তের শর্করা ও কিডনির অবস্থা ভলো থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে স্বভাবিক পাওয়া গেলেই এনজিওগ্রাম করা হয়। শেষ কথা- এনজিওগ্রাম, হূদযন্ত্রের করোনারী আর্টারির সংকোচন নির্ণয়ের একটি ইনভেসিভ পরীক্ষা যা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজন। সংকুচিত অংশ বেলুন দিয়ে প্রসারিত করা, রিং বা ষ্ট্যান্ট স্থাপন কিংবা বাইপাস অপারেশনের জন্য দিক নির্দেশনা দেয় এনজিওগ্রাম। কারো কারো ওষুধ ছাড়া অন্য কিছুর প্রয়োজন হয় না। এনজিওগ্রাম নিজে কোন চিকিত্সা না হলেও যথাযথ চিকিত্সার পথনির্দেশক ও সহায়ক। তাই চিকিত্সকের পরামর্শে সময়মত এনজিওগ্রাম করে প্রযোজ্য ব্যবস্থা নেয়া উত্তম। ডা. লিয়াকত হোসেন তপন হূদরোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট, ঢাকা