ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) তীব্র আপত্তির পরও সেই মুগদাল কমিটিকেই আইপিএল দুর্নীতি নিয়ে অধিকতর তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) তীব্র আপত্তির পরও সেই মুগদাল কমিটিকেই আইপিএল দুর্নীতি নিয়ে অধিকতর তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট। বিসিসিআইয়ের পাল্টা আবেদনের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া এই আদেশের ফলে নিজেদেরই গোপন খামে দেয়া ১৩ জন সন্দেহভাজনকে নিয়ে অতিরিক্ত তদন্ত মুগদাল কমিটিই করবে।
এই আদেশ দেয়ার পাশাপাশি আদালত মুগদাল কমিটিতে গ্রেপ্তার করা, নথিপত্র ও প্রমাণাদি জব্দ করা এবং তল্লাশী করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মুগদাল কমিটি যে যে চাহিদা দিয়েছিলেন, তার সব পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিপুল ক্ষমতাশালী এই কমিটিকে আগামী আগস্টের শেষ দিনের মধ্যে আদালতে আরেকটি বন্ধ খামে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
আইপিএলে দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক খেলোয়াড়-কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় প্রথমে বিসিসিআই নিজেই একটি তদন্ত কমিটি করেছিল। এই কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বিহারের (সিএবি) সচিব আদিত্য বার্মা আদালতের দ্বারস্থ হন। আদিত্য বার্মার রিট শুনানি শেষে ক্রিকেট সংস্কারে বিশেষজ্ঞ সাবেক বিচারপতি মুকুল মুগদালকে দায়িত্ব দেয় তদন্ত করার জন্য।
সেই মুগদাল কমিটির রিপোর্টে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। বেরিয়ে আসে স্বয়ং বিসিসিআই সভাপতি থেকে শুরু করে অনেকেই এই নাটকের সঙ্গে সন্দেহভাজন হিসেবে জড়িত। কমিটি তার রিপোর্টের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে একটি বন্ধ খামে ১৩ জন সন্দেহভাজনের নাম জমা দেয়; সেখানে বলা হয়, এই ১৩ জনকে নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া দরকার।
১৩ জনের একজন খোদ বিসিসিআই সভাপতি এন শ্রীনিবাসন বলে তাকে সভাপতি পদ থেকে সরে যেতে বলেন কোর্ট এবং এই ১৩ জনকে নিয়ে অতিরিক্ত তদন্তের জন্য বিসিসিআইকে কমিটি গঠন করতে বলেন।
বিসিসিআই একটি জরুরি সভা করে রবি শাস্ত্রীকে প্রধান করে অধিকতর তদন্তের জন্য একটি কমিটি করে। কিন্তু সেই নতুন কমিটি দেখে আদালত বিরক্তি প্রকাশ করেন। বিসিসিআইকে বলেন, তাদের কিছু করার দরকার নেই। আদালতই তখন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি মুগদালের সম্মতি চান। তিনি সম্মত হওয়ায় তার কমিটিকেই অতিরিক্ত তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।
মুগদাল সম্মত হওয়ার পর বিসিসিআই আবার আবেদন করে যে, মুগদাল কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া উচিত না। কারণ, তারা আগের রিপোর্টে অনেক ভুল করেছেন। আদালত এ আবেদন অগ্রাহ্য করে সেই মুগদাল কমিটিকেই চূড়ান্ত তদন্তের দায়িত্ব দিলেন। সেই সঙ্গে মুগদাল কমিটির পুরোনো দুই সদস্য এল নাগেশ্বারা রাও এবং নিলয় দত্তও থাকছেন কমিটিতে। থাকছেন ভারতীয় পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা বিবি মিশ্র। এছাড়া মুম্বাই, চেন্নাই ও দিল্লী পুলিশের একজন করে অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা থাকবেন কমিটিতে।
এই কমিটি চাওয়া মাত্র যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে বিসিসিআই বাধ্য থাকবে। মুগদাল কমিটির সমস্ত ব্যয়ভার ও অবকাঠামোগত সমর্থন দিতে বাধ্য বিসিসিআই। মুগদাল কমিটির প্রতি সদস্যকে প্রতিটি কর্মদিবসের জন্য ১ লাখ রুপী করে ‘ক্ষতিপূরণ’ দিতে হবে; এটাও বহন করতে হবে বিসিসিআইকে।
