কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়ায় অবস্থিত দৌলতপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে দৈনিক গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টির বেশি দলিল সম্পন্ন হয়। প্রতি দলিলে গ্রহিতাদের সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়।
৭০ হাজার টাকা মুল্যের ২ শতাংশ জমি সাফ কবলা দলিল করতে হাজারে ৭০ টাকা হারে মোট ৪৯০০ টাকার স্ট্যাম্প মূল্যের সঙ্গে হলফনামা বাবদ ৫০০ টাকা, চালান বাবদ ১৫০০ টাকা, তার দলিল লেখক সমিতির চাঁদা, পর্চা বাবদ ৫০০ টাকা, সাব রেজিষ্ট্রারের চাঁদা বা দাখিল ফিস বাবদ ১০০০ টাকা, অফিস রক্ষা ফিস ১০০ টাকা, দলিল লেখকের লেখা বাবদ ৫০০ টাকাসহ মোট ১৩০০০ টাকা খরচ হয়। এভাবে প্রতি দলিলে সাব রেজিষ্ট্রার দাখিল ফিস, অফিস রক্ষা ফিস ও পর্চা বাবদ (১০০০+১০০+৫০০) ১৬০০ টাকা হিসাবে প্রতিদিন ২০০ টি দলিলের বিপরীতে ৩ লক্ষাধিক টাকা ঘুষ আদায় করা হয়। ফলে, সপ্তাহে দুদিন করে মাসে সরকারী ছুটির দিন বাদে ৮ দিনে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকার বেশী ঘুষ আদায় করা হয়।
তিনি আরো জানান, সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের বড় বাবু খ্যাত প্রধান করণিক আল আমিন ও স্থায়ী মোহরার মনিরুল ইসলাম এসকল ফিস আদায় করে থাকেন। কমিশন দলিলের ক্ষেত্রে সরকারী নিয়মে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ৪৬০ টাকা নেবার বিধান থাকলেও সাড়ে ৪ হাজার ৬ হাজার টাকা নেয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাব- রেজিষ্টার সেলিম মলি¬ক জানান, তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাব-রেজিষ্টার হিসাবে কর্মরত। দৌলতপুরে কোন সাব-রেজিষ্টার না থাকায় তিনি সপ্তাহে দুদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র। অনিয়ম দুর্নীতি ও অতিরিক্ত ফিস আদায়ের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। যদি হয়ে থাকে তবে, অফিসের ষ্টাফরাই বলতে পারবেন।
