নগর সংস্কৃতি

প্রামাণ্যচিত্র টাইমলেস গীতাঞ্জলি

আপডেট : ১৬ মে ২০১৪, ২৩:৩১
বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী চঞ্চল খান নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘টাইমলেস্ গীতাঞ্জলি’র উদ্বোধনী প্রদর্শনী হলো গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে। ভারত-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় এ প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন শিল্পী চঞ্চল খান। তথ্যচিত্রটি প্রায় একবছর ধরে নির্মাণ করেছেন তিনি। বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানে, ভারতের কলকাতা, শান্তিনিকেতন ও যুক্তরাজ্যে চিত্রায়ন করেছেন। আর এতে ব্যবহার করেছেন গীতাঞ্জলির গান, আবৃত্তি। রয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাক্ষাত্কার। এরা হলেন প্রফেসর এমিরেটাস আনিসুজ্জামান, হায়াত্ মামুদ, করুণাময় গোস্বামী, শামসুজ্জামান খান, চিত্রলেখা চৌধুরী, রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। ধারাভাষ্য দিয়েছেন চঞ্চল খান ও ডালিয়া আহমেদ। এ প্রামাণ্যচিত্রের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ছিলেন হাসিনা আহমেদ সোমা। ‘১৯০৭ সালে কবিগুরুর ছেলে শমীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি বিচলিত ছিলেন। সেই শোকবেদনা থেকেই ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের সৃষ্টি।’ ১৯০৮ সালের পূজার ছুটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহে এসেছিলেন। ছুটির পর ফিরে শান্তিনিকেতনে একটানা পাঁচ মাস ছিলেন। পরের বছর বর্ষা ও শরত্কালে তিনি কিছুদিন শিলাইদহে গিয়েছিলেন। ফিরে কিছুদিন কলকাতায় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে কাটান। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের কবিতা ও গানগুলো এইসময়ে শিলাইদহ, শান্তিনিকেতন ও কলকাতায় রচিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে অনূদিত ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থটিতে ১৫৭টি গীতি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো ব্রাহ্ম-ভাবাপন্ন ভক্তিমূলক রচনা। এর বেশিরভাগ কবিতাতেই রবীন্দ্রনাথ নিজে সুরারোপ করেছিলেন। ১৯০৮-০৯ সালে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এই কবিতাগুলো প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯১০ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। ১৯১২ সালে রবীন্দ্রনাথের ‘সংস্ অফারিংস’ নামে অনূদিত কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এতে ‘গীতাঞ্জলি’ ও তার আরও কয়েকটি কাব্যগ্রন্থের কবিতা রবীন্দ্রনাথ নিজে অনুবাদ করে গ্রন্থবদ্ধ করেন। অনূদিত এই কাব্যগ্রন্থটির জন্যই রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। চঞ্চল খান বলেন, তথ্যচিত্রে ‘গীতাঞ্জলি’র গানের শিক্ষণীয় বিষয়টি ও কবিগুরুর ভাবনার জগিটকে দর্শকদের সামনে তুলে আনতে চেয়েছি। সুরালোক আয়োজিত এ উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত অ্যানেলি লুডহিল কেনি, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার ক্রেইগ উইলকক, ব্রিটিশ ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মি. নিকলো প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিল্পী চঞ্চল খান। গ্যালারি কায়ায় ১২ শিল্পীর মুখোশ প্রদর্শনী ব্যক্তি ও সমাজের নানা চিত্র ও রূপ ফুটে ওঠে মুখোশে। কখনো সরাসরি, কখনো রঙ্গ-রসিকতার মধ্য দিয়ে, কখনো বা ব্যঙ্গাত্মক রূপে। আবার এ মুখোশের আড়ালেই হয়তো থেকে যায় ব্যক্তি কিংবা সমাজের প্রকৃত চেহারাটি। ফলে মুখোশ খুলে দেয়ার মতো ব্যাপারও ঘটতে দেখা যায়। নানা রং, অভিব্যক্তি ও ভঙ্গিমা এবং নিরীক্ষাধর্মী মুখোশ নিয়ে রাজধানীর উত্তরার গ্যালারি কায়ায় শুরু হলো ১২ শিল্পীর যৌথ মুখোশ প্রদর্শনী। বাংলাদেশের শিল্পচর্চার ইতিহাস মুখোশের কাজ খুব কমই দেখা মেলে। কিন্তু হাল আমলের শিল্পীদের মাঝে মুখোশ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এছাড়া শিল্প সংগ্রাহকদের কাছেও মুখোশ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘মুখ ও মুখোশ-পাঁচ’ শিরোনামের এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন কাজী রাকিব, মাসুদা কাজী, সাইদুল হক জুইস, ফারুক আহমেদ, দেবাশীষ পাল, রেজাউল ইসলাম, মো. আবদুল মোমেন, আবদুর রহিম, পিন্টু চন্দ্র দেব, দেবদাশ মালাকার, সন্দীপ কুমার দেবনাথ ও অমিত কুচ। প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, মুখোশে কাচের ব্যবহারে শিল্পী কাজী রাকিবের কাজে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য ধরা পড়েছে। টেরাকোটা ও কাঠের কাজগুলোতেও রঙ ও গভীরতা তৈরির প্রচেষ্টা তার কাজের গুরুত্বপূর্ণ দিক। শিল্পী সাইদুল হক জুইসের কাজগুলোতে মুখোশে আধুনিক শিল্পকলার অগ্রগতি দৃঢ়ভাবে প্রকাশিত। সব মিলিয়ে ভিন্নধারার এ প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে মুখোশের নানা শৈল্পিক রূপ। গ্যালারি কায়ার পরিচালক শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী বলেন, মুখোশ শিল্পের চর্চাকে প্রসারিত ও এ চর্চায় নিয়োজিত দেশের সমসাময়িক নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের সমন্বিত করার লক্ষ্যেই ২০০৫ সালে শুরু করেছিল মুখোশের প্রথম প্রদর্শনী। এরই ধারাবাহিকতায় এ প্রদর্শনী। মুখোশ নিয়ে এটি পঞ্চম আয়োজন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বের পর ছিল এ সময়ের জনপ্রিয় গানের দল জলের গানের পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠান। প্রদর্শনী ৩০ মে পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এস ডি রুবেলের কনসার্ট ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী এস ডি রুবেলের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা এস ডি রুবেল তার সেসব জনপ্রিয় গান গেয়ে মুগ্ধ করলেন দর্শক-শ্রোতাদের। সুন্দর কণ্ঠ ও নায়কোচিত চেহারার জন্য দর্শকদের কাছে তার আবেদন সবসময়ই তুঙ্গে। গতকালের অনুষ্ঠানে মিলনায়তন ভর্তি দর্শকদের উপস্থিতি সে কথা আবারো প্রমাণ করলো। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভারতীয় হাইকমিশনের প্রেস, ইনফরমেশন ও সাংস্কৃতিক বিভাগের দ্বিতীয় সচিব সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়। ঢাকা আর্ট সেন্টারে পাঁচ শিল্পীর প্রদর্শনী শুরু রাজধানীর ধানমন্ডির ঢাকা আর্ট সেন্টারে শুরু হলো পাঁচ শিল্পীর শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় চতুষ্কোণ আর্ট ওয়েভ আয়োজিত এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পী হামিদুজ্জামান খান এবং বিশেষ অতিথি শিল্প সমালোচক মইনুদ্দিন খালিদ। প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন শিল্পী গোলাম ফারুখ বেবুল, ময়নুল ইসলাম পল, শাবিন শাহরিয়ার, নূরুল আমিন ও জিল্লুর রহমান। বিভিন্ন মাধ্যমের ৩২টি পেইন্টিং ও ৬টি পাথরের ভাস্কর্য নিয়ে আয়োজিত এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ২২ মে পর্যন্ত। বাসারের আবৃত্তি এলবাম ‘আমার কোন অভিযোগ নেই’ ত্রিলোক বাচিক পাঠশালা থেকে প্রকাশ পেল মাসুম আজিজুল বাসারের একক আবৃত্তির অ্যালবাম ‘আমার কোন অভিযোগ নেই’। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহ্্কাম উল্লাহ, আবৃত্তি শিল্পী মাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা শেষে পরিবেশিত হয় আজিজুল বাসারের একক আবৃত্তি সন্ধ্যা।