বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা অবশ্যই ভারতের সঙ্গে একটা কার্যকর সম্পর্ক চাই। আমরা বৈরী সম্পর্ক চাই না। সে দেশে নতুন সরকার আসছে। আমরা আশা করি, তারা এদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন করবে। আমাদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এটা প্রয়োজন।
গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, ভারতের জনগণ তাদের পছন্দসই দলকে বেছে নিয়েছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বের। আমরা আশা করবো, বাংলাদেশ-ভারতের মাঝে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে নতুন নির্বাচিত সরকার তা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৩৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘ভারতের অব্যাহত পানি আগ্রাসন:আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। এতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আগ্রাসন প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আলমগীর মজুমদার, ডেমোক্রেটিক লীগের সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমেদ, ন্যাপের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ফারুক হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে দরকষাকষির কোনো সাহস আওয়ামী লীগের নেই। তাদের মাইন্ডসেটই এমন হয়ে গেছে। পানি নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। ব্রহ্মপুত্র নদীর পানির গতিপথ পরিবর্তন করে নিয়ে যাবে তাদের কৃষির জন্য। টিপাইমুখ বাঁধসহ যতগুলো বাঁধ নির্মিত হচ্ছে তা তাদের মেগা প্রকল্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে এ বিষয়গুলোকে কখনোই গুরুত্ব দেয়নি।
‘নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় জড়িত তিন র্যাব কর্মকর্তাকে হাইকোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও গ্রেফতার করা হয়নি’ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, তাদের আদৌ গ্রেফতার করা হবে কিনা —এই আশঙ্কা এখন জনমনে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একেকরকম বক্তব্য দিয়ে আদালতের আদেশ অবজ্ঞা করছে।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ডেমরা থানা যুবদল সভাপতি রফিকুল ইসলামকে সাদা পোশাকের পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। রফিকুলের আত্মীয়-স্বজন থানা ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো হদিস দিতে পারেনি। তাকে দ্রুত ফিরিয়ে না দিলে এর পরিণতি খুব খারাপ হবে।
