খাদ্য উদ্বৃত্ত নওগাঁ জেলায় চলতি মৌসুমের ইরি-বোরো ধান চাল সংগ্রহ অভিযান ভেস্তে যাওয়া আশংকা করা হচ্ছে। সরকারি বেধে দেয়া নিয়ম অনুযায়ী খাদ্য বিভাগের সাথে মিল মালিকরা চুক্তি করে ১ মে থেকে নওগাঁয় ইরি-বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গত ১৫ দিনে জেলার ১১ উপজেলার ১৮টি খাদ্য গুদামে একজন মিল মালিকও চুক্তি করেননি। ফলে সারাদেশে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান পুরোদমে শুরু হলেও নওগাঁ খাদ্য বিভাগ এখনো শুরু করতে পারেনি সংগ্রহ কার্যক্রম।
নওগাঁ খাদ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে জেলার ১১ উপজেলার ১৮টি খাদ্য গুদামের মাধ্যমে নওগাঁয় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে ৫ হাজার ৯৯০ টন ধান এবং চাল কল মালিকদের কাছ থেকে ৩১ টাকা কেজি দরে ৬২ হাজার ৩৭৫ টন চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।
গত ১৫ মে পর্যন্ত নওগাঁর রানীনগর খাদ্য গুদামে ১ টন এবং মান্দা খাদ্য গুদামে ২ টন ধান সরবরাহ করেছে দুই জন কৃষক। আর মিলারদের সাথে চুক্তি না হওয়ায় গত ১৫ দিনে এক ছটাক চাল সংগ্রহ করতে পারেনি নওগাঁ খাদ্য বিভাগ।
নওগাঁ জেলা চাল কল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফরহাদ হোসেন জানান, চুক্তি করলে চুক্তির দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সমুদয় চাল সরবরাহ করতে হবে। না হলে মিলের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। সরকারি এ নিয়মের কারণে মিল মালিকরা পড়েছে বিপাকে। হাট থেকে ধান কেনা, ক্র্যানিং করে চাল উত্পাদন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং সময় সাপেক্ষ বিষয়। এছাড়া, আবহাওয়া, রোদ, বৃষ্টি, বিদ্যুত্ ব্যবস্থা অনুকূলে থাকলেই সময়মতো চাল সরবরাহ করা সম্ভব। এছাড়া, বর্তমানে বাজারে ধানের যে দাম তাতে ধান কিনে চাল উত্পাদন করতে কেজি প্রতি খরচই পড়বে ৩৩/৩৪ টাকার মতো। আর সেখানে সরকার মিল মালিকদের দিবে ৩১ টাকা। এতে মিল মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।
এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, নওগাঁর স্থানীয় অবস্থা বিবেচনা করে নওগাঁ খাদ্য বিভাগ ২০ মে পর্যন্ত মিল মালিকদের সাথে চুক্তি করার সময় নির্ধারণ করেছেন। তিনি আশা করছেন যে, ২০ মে’র মধ্যে ১ হাজার ৩ জন মিল মালিক সরকারের সাথে চাল সরবরাহের চুক্তি করবেন এবং ৩০ আগষ্টের মধ্যে চুক্তি অনুসারে মিল মালিকরা চাল সরবরাহ করবেন। যেহেতু সামনে এখনো ৩ মাস সময় আছে তাই ধান চাল সংগ্রহ নিয়ে কোন প্রকার সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
