গতির কারণে এই দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি ঠাট্টার স্বীকার যদি কোনো প্রাণীকে হতে হয় তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে কচ্ছপ। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কচ্ছপের গতি নিয়ে প্রচলিত আছে নানান গল্প আর কৌতুক। তবে বাস্তবে একটি কচ্ছপ যে কতটা ধীর তা নিয়ে সম্প্রতি সত্যিকার এক খবরেরই জন্ম দিয়েছে স্পাইক নামের একটি পোষা কচ্ছপ। নিউ ম্যাক্সিকোর রিও রাচো’তে বাস করা এই কচ্ছপটি সুযোগ বুঝে সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে বাড়ি থেকে পালাতে সক্ষম হলেও ধীর গতির কারণে ধরা পড়ে প্রাণী নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মীদের হাতে। আর ধরা পড়বার আগে দুই ঘণ্টায় তার অতিক্রান্ত দূরত্বের পরিমাণ ছিল মাত্র আধা মাইল। এ প্রসঙ্গে কচ্ছপটির মালিক অড্রে জানান, স্পাইক নামের এই কচ্ছপটিকে আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন তার স্বামীর কাছ থেকে। আর সেই থেকে ১৭ বছর বয়সী এই কচ্ছপটি তার পরিবারের একজন হিসেবেই ঘরের এক কোণে বাস করতো। স্বামীর দেওয়া বলে আদর যত্নেরও নেহাত কমতি ছিল না। যদিও কচ্ছপটি যে তার এই বন্দী দুনিয়ায় সন্তুষ্ট ছিল না সেটির প্রমাণ মেলে সম্প্রতি বাড়ির সদর দরজা খোলা থাকার সুযোগ নিয়ে কচ্ছপটি পালিয়ে গেলে। স্পাইক নামের ৮০ পাউন্ড ওজনের এই কচ্ছপটি হারিয়ে যাওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যে সেটি টের পেয়ে প্রথমেই বাড়ির আশেপাশে কচ্ছপটির খোঁজ করেন অড্রে। তবে এভাবে কচ্ছপটির সন্ধান না পাওয়ায় সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিষয়টি অবহিত করেন তিনি। এদিকে গতিতে কম হলেও অধ্যবসায়ে কচ্ছপ যে কম যায় না তার প্রমাণ রেখেই স্পাইক তার বিশাল দেহ নিয়ে দু’ঘণ্টায় অতিক্রম করে আধ মাইলের কাছাকাছি পথ। আর এর পরেই প্রাণী নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীদের হাতে ধরা পড়ে অবসান ঘটে তার চ্যালেঞ্জিং পলায়ন পর্বের।
