ঘুম থেকে উঠে মোবাইল ফোনে ইমেল নোটিফিকেশন দেখে মাথা ঘুরছে। এমনিতেই সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে মাইক লে পরিচালিত ব্রিটিশ ফিল্ম ‘মি. টার্নার’-এর শো দেখতে যাব। তার উপর এত বড় একটা কাজ আমি কীভাবে করব? তাই ভাবছি। মুম্বাইয়ের সাজিদ নাদিয়াওয়ালা প্রোডাকশন্স থেকে মুস্তাক নাদিয়ালার ইমেইল, ‘স্বপন ভালো আছ জানি, যেকোনোভাবেই হোক, এই দুইজন ফরাসি পরিচালকের সাথে দেখা করে যেকোনো একজনের সাথে আমাকে ফোনে কথা বলিয়ে দেবে, আমি জানি তারা এখন কান চলচ্চিত্র উত্সবে রয়েছেন। ফোনের অপেক্ষায় রইলাম। তারা ফ্রান্সে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তুমিও তাদের চিনবে। একজনের নাম মি. লুই লেতারিয়ার যিনি ‘ট্রান্সপোর্টার’, ‘ট্রান্সপোর্টার ২’, ‘ইনক্রেডিবল হাল্ক’-এর পরিচালক, দ্বিতীয় জনের নাম মি. পিয়ার মরেল যিনি ‘টেকেন’, ‘ফ্রম প্যারিস উইথ লাভ’, ‘গান ম্যান’ ছবির পরিচালক।’ ইমেইলটা পড়ে কী করব বুঝতে পারছিলাম না। কতক্ষণ চুপ করে বসে ছিলাম তাও মনে নেই। দীর্ঘদিন ফ্রান্সে কাজ করার সুবাদে আমি তাদের চিনি কিন্তু তারা তো আমাকে চিনবেন না। ২ জন মানুষকে আমি কখনও ‘না’ বলতে পারি না, একজন ইমপ্রেস টেলিফিল্মের মার্কেটিং ডিরেক্টর জনাব ইবনে হাসান খান, আরেকজন হলো নাদিয়াওয়ালা প্রোডাকশন্সের পরিচালক মুস্তাক নাদিয়াওয়ালা, কারণ এই দুইজন বছরের পর বছর ধরে আমাকে ঢাকা ও মুম্বাইয়ে আগলে রেখেছেন। যাই হোক, এখন সিনেমা দেখার পালা তাই এত সকালে তাদেরকে আমি খুঁজে পাব না। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়ারে পৌঁছে দেখলাম, আমার আগেই সকল অংশগ্রহণকারীরা চলে এসেছেন। মাইক লে, ডরথি অ্যাটকিনসন, টিমথি স্পাল, পল জ্যাশনদের সাথে রেড কার্পেটে হেঁটে সোজা নিজের আসনে গিয়ে বসলাম। সিনেমাটি মনোযোগ না দিয়ে দেখলে গল্পের কিছুই বুঝা যাবে না। এবারের কানে এটি অন্যতম সেরা সিনেমা হিসেবে বিবেচিত। গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়ার থেকে বের হয়ে পালে দু ফেস্টিভালে ঢোকার পথে মোবাইল ফোন চালু করতেই অসংখ্য ম্যাসেজ, আমার প্রযোজক জসিম ভাই, মুম্বাইয়ের প্রাইম ফোকাস থেকে আমার এডিটর রবি দা, কলকাতার এডিট এফ এক্স থেকে সুমেরদার বহু জরুরি বার্তায় মনোনিবেশ না করে আমি চললাম পরিচালক লুই লেতারিয়ার বা পিয়ার মরেলকে খুঁজতে। পথে দেখা হয়ে গেল ‘স্ল্যামডগ মিলিওনিয়ার’-এর জন্য অস্কার জয়ী সাউন্ড ডিজাইনার রেসুলের সাথে। রেসুল কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আমাকে নিয়ে গেল ভারতের জাতীয় ফিল্ম বোর্ডের স্টলে, সেখানে বসে আছেন বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা মল্লিকা শেরওয়াত। সেখানে ভারতীয় ছবি কীভাবে আরও বিশালভাবে বিশ্ববাজারে এক্সপোর্ট করা যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ভাবলাম, আমরা কবে এসব বিষয় নিয়ে ভাবব? আমাদেরকেও ঢুকতে হবে বিশ্ববাজারে। তবেই বড় বাজেটের ছবি সম্ভব। মল্লিকার সাথে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা হলো। আড্ডার ফাঁকে খুব সিরিয়াস হয়ে বললেন,‘ স্বপন ভাই ভালো স্ক্রিপ্ট হলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন। আমি বাংলা ছবি করতে চাই।’ আমি বললাম ‘অবশ্যই... অবশ্যই। (চলবে)
আগামীকাল :কানেও হলিউড-বলিউড যুদ্ধ
