ঢাকা বোর্ডের সেরা সাত স্কুল

আপডেট : ১৭ মে ২০১৪, ২২:৫৪
২০১৪ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে এবার সেরা হয়েছে উত্তরা রাজউক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। দ্বিতীয় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও তৃতীয় হয়েছে ভিকারুন নিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এছাড়া চতুর্থ মাইলস্টোন স্কুল, পঞ্চম মতিঝিল মডেল স্কুল, ষষ্ঠ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল স্কুল, সপ্তম আদমজী ক্যান্টনম্যান্ট স্কুল, অষ্টম মতিঝিল গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুল, নবম ডেমরার শামসুল হক খান হাইস্কুল এবং দশম স্থানে রয়েছে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়। ভিকারুন নিসা তৃতীয় অবস্থানে বাদ্য বাজছে। বাদ্যের সাথে তাল রেখে যেন উচ্ছ্বাস বাড়ছে। প্রচণ্ড গরম আর রোদকে উপেক্ষা করে ঘেমে নেয়েও পরম আনন্দে সফল হওয়ার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে মেধা তালিকায় তৃতীয় হওয়া ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। হাসিভরা মুখ নিয়ে একজন অন্যজনকে জড়িয়ে ধরছে। প্রশ্ন করে জেনে নিচ্ছে বন্ধুও জিপিএ-৫ পেয়েছে কিনা। জানার সাথে সাথে আনন্দ-চিত্কার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে মাঠের এপাশ থেকে অন্যপাশ। গতবারের এই প্রতিষ্ঠান দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এবছর প্রতিষ্ঠানের ১৩৯৬ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকলে কৃতকার্য হয়েছে। এবছর স্কুলের বিজ্ঞান শাখা হতে ১১৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যাদের মধ্যে ১১২৪ জন জিপিএ-৫ পায়। মানবিক শাখায় ২২ জন শিক্ষার্থীর ১১ জন জিপিএ পাঁচ আর হিসাব বিজ্ঞান শাখায় ২৪৪ জনের মধ্যে ১৯৫ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে। জান্নাতুল ফেরদৌসী মিথিলা, তাহনিন তাহের অমি, তাসনিম তাবাসুম রাইসা, সিন্থিয়া জাহান, রেহনুমা প্রসুন সকলেই ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের জিপিএ-৫ পাওয়া বিজ্ঞান শিক্ষার্থী। তারা বলেন, স্কুলের শিক্ষদের বিশেষ যত্নে আর অভিভাবকের সহযোগিতায় এই ফলাফল। অভিভাবক রাফিজা তাহের বলেন, সন্তানের পরীক্ষায় তার নিজের পরীক্ষার মতোই টেনশন হতো। আজ মেয়ের ভাল ফলাফল যেন নিজেরই অনেক প্রত্যাশার ফল। যথেষ্ট যত্ন, ভাল শিক্ষার পরিবেশ, দক্ষ শিক্ষক, অভিভাবকদের সহযোগিতা সর্বপরি শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের ধারাবাহিক ভাল ফলাফলের মূল কারণ বলে জানান অধ্যক্ষ মঞ্জু আরা বেগম। বলেন, ফলাফলে আমরা সন্তুষ্ট। এবছর আমাদের প্রত্যেক শাখার ফলাফল ভাল। আজিমপুর শাখা সবচেয়ে ভাল ফল করেছে। মাইলস্টোন কলেজ চতুর্থ সম্মিলিত মেধা তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে উত্তরার মাইলস্টোন কলেজ। এবছর মাইলস্টোন কলেজ থেকে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে ৯০৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। উত্তীর্ণদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৬৬ জন এবং এ গ্রেড অর্জন করে ৪২ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৯৫.৩৭। বিজ্ঞান বিভাগে ৬১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০৫ জন জিপিএ-৫ এবং ৮ জন এ গ্রেড পেয়েছে। বাণিজ্য বিভাগ থেকে ২৯৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৬১ জন জিপিএ-৫ এবং ৩৪ জন এ গ্রেড পেয়েছে। ২০১৩ সালে মাইলস্টোন কলেজ ঢাকা বোর্ডে ১০ম স্থান অর্জন করেছিল। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সহিদুল ইসলাম এবং উপাধ্যক্ষ লে. কর্নেল এম. কামালউদ্দিন ভুঁইয়া (অব.) বলেন, আমাদের মূল কথা হচ্ছে— শেখো এবং নেতৃত্ব দিও যোগ্যতার সাথে। সেই যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে মাইলস্টোন কলেজ শিক্ষার্থীদের শুধু স্বপ্ন-ই দেখায় না, স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে থাকে প্রিয় বন্ধুর মতো। মতিঝিল মডেল হাই স্কুল পঞ্চম সম্মিলিত মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান দখল করেছে মতিঝিল মডেল হাই স্কুল। এ বছর স্কুলটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় এক হাজার ২৭৯ জন। পাস করে এক হাজার ২৭৮ জন। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ১৩০ জন। পাসের হার ৯৬.০৬ ভাগ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, নিয়মিত লেখাপড়া ও শৃঙ্খলার কারণেই বিগত দিনের মত এ বছরও ফলাফল ভালো হয়েছে। বিগত দিনেও এই স্কুলের ছাত্ররা পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখেছে। তিনি বলেন, স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের অক্লান্ত শ্রমের ফলেই প্রতি বছর স্কুলটির ফলাফল ভালো হয়। রেসিডেনসিয়াল মডেল ৬ষ্ঠ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। স্কুলটির পাসের হার শতভাগ। এ বছর মোট ৪৬৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৩১ জন। গত বছর মেধা তালিকায় স্কুলটি চতুর্থ স্থান অধিকার করলেও এ বছর ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। স্কুলের এ ফলাফলের মূলে রয়েছে স্কুলের অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রশাসন, সুযোগ্য নেতৃত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা আনন্দিত। একাধিক অভিভাবক বলেন, শিক্ষকদের প্রতিটি শিক্ষার্থীর বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়াতে ফলাফল আশানুরূপ হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ৪১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯২ জন, বাণিজ্য বিভাগে ৩৭ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১ জন, পাসের হার শতভাগ। মানবিক বিভাগে ২০ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। সব মিলিয়ে মোট ৪৬৭ জন শিক্ষার্থী এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং মোট পাস করে ৪৬৭ জন। তাদের পাসের হার তিন বিভাগেই শতভাগ। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, প্রশংসনীয় ফলাফলের পেছনে রয়েছে সুযোগ্য নেতৃত্ব ও নিবিড় তত্ত্বাবধান। শিক্ষার্থীদের পাঠোন্নতির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, একাধিক মডেল টেস্ট এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছাত্রদের বিশেষ যত্ন ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও ছাত্রদের নিষ্ঠা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সহায়ক হয়েছে। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল সপ্তম আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে পাস করেছে ৩৫০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২৪ জন। পাসের হার ৯৪.৩২ শতাংশ। ঢাকা বোর্ডের এই স্কুলটি এবার ৭ম স্থান অর্জন করেছে। মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় অষ্টম মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৯০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের ৩৯০ জনই পাস করেছে। স্কুলটির পাসের হার শতভাগ। ৩৫৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সাফল্যের দিক থেকে ঢাকা বোর্ডের এই স্কুলটি এবার অষ্টম স্থানে আছে। শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ নবম শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৭০৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের ৭০৬ জনই পাস করেছে। স্কুলটির পাসের হার শতভাগ। ৫৭০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সাফল্যের দিক থেকে ঢাকা বোর্ডের এই প্রতিষ্ঠানটি এবার নবম স্থান অর্জন করেছে। বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় দশম টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় দশম স্থান অর্জন করেছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৭১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ৩৭০ জনই পাস করেছে। স্কুলটির পাসের হার ৯৩.৫১ শতাংশ। ৩৩৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সাফল্যের দিক থেকে ঢাকা বোর্ডের এই প্রতিষ্ঠানটি এবার দশম স্থান অর্জন করেছে।