শেষ ধাপের ১৩ উপজেলার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল সোমবার। গতরাতেই শেষ হয়েছে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। আজ বন্ধ হচ্ছে সব ধরনের যান্ত্রিক যান চলাচল। এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা। জয়ের হিসাব-নিকাশ কষছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। শেষ মুহূর্তেও কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছেন অনেক প্রার্থী। তবে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা টহল শুরু করেছেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক ইত্তেফাককে বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ গুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসি থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে সেসব ভোটকেন্দ বন্ধ করে দেয়া হবে।
আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ। ভোটের দিন এসব এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে ইসি। মোট ১৯৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬৯ জন এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭৫ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫২ জন। গতকাল রাত ১২টা থেকে নির্বাচনের পরবর্তী ৬৪ ঘন্টা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ। এই আইন ভঙ্গ করলে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
শেষ ধাপেও বিদ্রোহী প্রার্থী
শেষ ধাপের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নির্বাচনে সাতটি রাজনৈতিক দল সমর্থিত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বহিষ্কারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও বিদ্রোহীদের বশে আনতে পারেনি প্রধান দুই দল। একারণে দলীয় প্রার্থীর বিজয় হাতছাড়ার আশংকা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ নির্বাচনে শুধু চেয়ারম্যান পদে ৪ উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাতজন, ৩ উপজেলায় বিএনপির চারজন বিদ্রোহী প্রার্থী লড়ছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা আরও বেশি। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, জামায়াত, সিপিবি, সম্মিলিত ইসলামী ঐক্য ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন। রংপুর সদর ও গঙ্গাচড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এ দুই উপজেলায় একক প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিএনপির পাশাপাশি লড়ছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী। কাউনিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এ উপজেলায় বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিলেও বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আবার কুমিল্লার আদর্শ সদরে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি একক প্রার্থী দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ও বরগুনার তালতলীতে বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছে। গাজীপুর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পাশাপাশি তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী লড়ছেন। অপরদিকে বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছে।
যে ১৩ উপজেলায় ভোট
উপজেলাগুলো হচ্ছে- রংপুর সদর, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া ও পীরগাছা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, বরগুনার তালতলী, টাঙ্গাইলের বাসাইল, গাজীপুর সদর, রাজবাড়ীর কালুখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, কুমিল্লার আদর্শ সদর এবং সদর দক্ষিণ। একই তারিখে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় শুধু চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন প্রার্থী। গত ১৬ এপ্রিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকীবউদ্দিন আহমদ একটি উপ-নির্বাচনসহ ১৫ উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এর মধ্যে আদালত রুল জারি করায় নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার নির্বাচন আপাতত স্থগিত রয়েছে। আর স্থগিতাদেশ খারিজ হওয়ায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার পুনঃতফসিল করে ১৯ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।
