ছেলেবেলা থেকেই মায়ের অনুপ্রেরণায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন তামান্না তিথি। ১৯৯৪ সাল থেকে নিয়মিতভাবে কাজ শুরু করেন কণ্ঠশীলনের হয়ে। তারপর থিয়েটার, থিয়েটার স্কুল এভাবে বাচিক শিল্পের সাথে সখ্যতা তার। মাঝে পারিবারিক কারণেই সাময়িক দূরে থাকা। তারপর কবিতার জন্য ভালবাসার কারণেই ফিরে আসা। এখন তিনি নিজের সংগঠন উদ্ভাসন নিয়ে কাজ করছেন। সাথে আছে শিশু-কিশোরদের জন্য গল্পবলার স্কুলভিত্তিক সংগঠন কল্পরেখা।
গত ৯ মে নিজের হাতে গড়া উদ্ভাসনের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়। এই উপলক্ষে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সেমিনার হলে এক প্রীতি অনুষ্ঠনের আয়োজন করা হয়। বন্ধু-বান্ধব শুভাকাঙ্ক্ষিরা আসেন শুভেচ্ছা জানাতে। বর্তমানে আমাদের দেশে বাচিক সংগঠন কার্যক্রম ও এখানে মেয়েদের অবস্থান, নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলেন তিথি। তিনি বলেন, মেয়েদের অবস্থান আর নেতৃত্বও এখানে বড় নাজুক। আমরা যতই আধুনিকতার দাবি করি না কেন, এখনও সমাজ সন্ধ্যার পরে বাচিক চর্চার জন্য মেয়ের বাড়ির বাইরে থাকাকে সহজে নিতে শেখেনি।
তিনি বলেন, খুব যোগ্য না হলে বাচিক সংগঠনে নারী নেতৃত্ব কঠিন বিষয়। নিজের গড়া উদ্ভাসনে সকলের সহযোগিতা থাকলেও কারো কারো যে মানতে কষ্ট ছিল, তা তিনি ঠিক আঁচ করতে পেরেছেন। তিনি জানান, ২০০৯ সালে উদ্ভাসনের ব্যানারে তার প্রথম প্রযোজনা ‘সব চেয়ে সুন্দর’ গল্প বলার ১ ঘন্টা ২০ মিনিটের অনুষ্ঠান হয়। তারপর তিথির মনে হয়, আমাদের দেশের শিশুদের নানি-দাদিরা আর আগের মতো করে গল্প শোনান না। কিন্তু এটা আমাদের একটি সমৃদ্ধ শিল্প হতে পারে। শিশুদের মাঝে গল্প বলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য গুরু দেশের অন্যতম বাচিক প্রশিক্ষক মীর বরকত সাথে শুরু করেন কল্পরেখার কার্যক্রম। এখান থেকেই শিশু-কিশোরদের গল্প বলার অনুষ্ঠান করে ২০১১ সালে জয় করেন মিনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাচিক শিল্পে কাজ করার মতো মানসিকতার মানুষের বড় অভাব। নিত্য নতুন টিভি চ্যালেন আর রেডিওতে নিজের ক্যারিয়ার করায় ব্যস্ত সবাই। বাচিক প্রশিক্ষণ শুধু যোগ্যতা বাড়ানোর সিঁড়ি হিসেবে গ্রহণ করে। এই শিল্পে নিজের অবস্থান তৈরির জন্য নয়। এখানে অর্থনৈতিক দৈন্য আছে আবার প্রসার প্রচারের সীমাবদ্ধতা।
সবমিলিয়ে খুব প্রতিশ্রুতিশীল না হলে এই শিল্পে কেউ থাকছে না। ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী তামান্না তিথি একসময় বহুজাতিক কোম্পানির চাকরি ছেড়ে ছিলেন বাচিক শিল্পর্চচার জন্য। বর্তমানে জীবনের প্রয়োজনে একটি আইটি ফার্মের ভয়েস সংক্রান্ত কাজের সাথে জড়িত।
তিথি বলেন, বাচিক শিল্পকে পেশা হিসেবে দু’চারজন নিলেও পুরো প্রেক্ষাপটটা এখনও সেভাবে তৈরি হয়নি। কবিতা শিক্ষিত বোদ্ধা মহলের বিষয় এই ধারণা ভেঙ্গে সাধারণ মহলে পৌঁছে দেয়ার নিমিত্তে কাজ করছেন তিথি। আর স্বপ্ন দেখছেন গল্পবলাকে নাচ-গানের মতো পারফরমিং আর্টে প্রতিষ্ঠিত করার।
