কা রু শি ল্প ..................................

বদলে গেছে ভাগ্য!

আপডেট : ১৮ মে ২০১৪, ১৯:৫২
বাঁশ ও বেতের তৈরি ফুলদানিতে বদলে গেছে ভাগ্য! টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের বর্ণী ও বারপাখিয়া গ্রামের নাজমা বেগম, বাথুলী, কোপাখীর ভাগ্য বদলেছে ফুলদানিতে। বাঁশ ও বেত শিল্প বদলে দিয়েছে তাদের ভাগ্যের চাকা। আর এ ভাগ্য পরিবর্তনের মূলে রয়েছেন বর্ণী গ্রামের শাহ আলমের স্ত্রী নাজমা বেগম। নাজমা বেগম নিজে বাঁশ শিল্পের সঙ্গে জড়িত হয়ে গ্রামের অন্য নারীদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত করেছেন। নাজমা বেগম বলেন, স্বামী শাহ আলমের উত্সাহে বাঁশ ও বেত দিয়ে নানারকম জিনিস তৈরি করতে শুরু করি। ঘরে বসেই তারা এখন মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করছেন। নতুন নতুন আসবাবপত্র, গৃহস্থালি জিনিসপত্র উদ্ভাবনের কারণে বাঁশ শিল্প পণ্যের চাহিদা দিন দিন কমতে শুরু করে। এ অবস্থায় বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে নতুনভাবে উদ্যোগ নেন তার স্বামী। আমাদের একার পক্ষে এত বড় কাজ করা সম্ভব নয়। এলাকার নারী-পুরুষদেরও আমরা আমাদের এ কাজে যুক্ত করি। ১৯৯২ সালে আড়ংয়ের ডিজাইনার চন্দ্র শেখর সাহা আমার স্বামীকে বাঁশের তৈরি সৌখিন পণ্য তৈরির পরামর্শ দেন। স্বামীর পরামর্শ অনুযায়ী আমি নমুনা হিসেবে পাঁচটি পণ্য তৈরি করে জমা দেই। আমার তৈরিকৃত পণ্যগুলো পছন্দ হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে তা তৈরির অর্ডার পাই। শুরু হয় নতুনভাবে পথচলা। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদ থেকে ২০০২ সালে সেরা কারুশিল্পীর পুরস্কার পাই। সরকারিভাবে নেপাল, ভারত ও চীন সফর করেছি। এখন ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী ট্রে, প্লেস ম্যাট, ফুলদানি, টেবিল ল্যাম্প, ড্রিংক বক্স, ওয়ালম্যাট ও বিভিন্ন ডিজাইনের ঝুড়িসহ আধুনিক সৌখিন পণ্য তৈরি করছি। বাঁশ দিয়ে গহণা তৈরি শুরু করেছি। এ গহণা শুধু দেশে নয় বিদেশে রফতানি করি। বাঁশ শিল্পের পণ্য তৈরি করে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হয়।