কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
বিজ্ঞানের উন্নতিতে উন্নত হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রার মান। নিমিষেই পাড়ি জমাচ্ছে সুদূরে। ইচ্ছে হলেই সকালের নাস্তাটা সেরে আসছে বুর্জ আল আরাবের মত সাততারা হোটেলে। বিজ্ঞান মানুষকে এনে দিয়েছে সীমাহীন আনন্দ, জীবনকে করে তুলেছে সহজ ও আরামপ্রিয়। শুধু বদলাতে পারেনি আমাদের মানসিকতা ও ভিতরের পশুত্বটা। তাইতো আমাদেরই মা, বোন পথেঘাটে, অফিসে এমনকি নিজের ঘরের চার দেয়ালের মাঝে হচ্ছে নির্যাতিত, লাঞ্চিত। ফলশ্রুতিতে কষ্ট, অপমান আর জীবনের এই ভয়ংকর পরিস্থিতি সামলে উঠতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে আমাদেরই আপনজন। আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে। নির্যাতিত হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যৌতুক। যদিও আমরা ঘটা করে প্রচার করছি যৌতুক একটা সামাজিক ব্যাধি। যৌতুক নেয়া বা দেয়া দুটোই অপরাধ। কিন্তু আমাদের প্রচার-প্রচারণা ব্যর্থ হচ্ছে। অভিভাবকেরা মেয়েকে ভালো ঘরে বিয়ে দিতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। মেয়ের সুখের জন্য যৌতুক দিতে বাধ্য হচ্ছে বাবা। যৌতুকের টাকা হাতে না পেলে কিছু পশুস্বভাবের পুরুষ স্ত্রীকে বেদমভাবে প্রহার করছে। কখনোবা হিতাহিত জ্ঞানশুণ্য হয়ে স্ত্রীর মুখে এসিড মারতেও দ্বিধা করছে না।
দ্বিতীয়ত, কারো ভালোবাসার ডাকে সাড়া না দিলেও নারীকে হতে হচ্ছে লাঞ্চিত। সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে আমাদের তরুণেরা প্রতিনিয়ত ড্রাগে আসক্ত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে তাদের ভেতরের মনুষত্ব মরে গিয়ে জন্ম নিচ্ছে পশু সত্ত্বা এবং নারীকে মা, বোন কিংবা মেয়ে ভাবতে ভুলে যাচ্ছে। স্কুল কলেজগামী মেয়েরা ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে। পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং ধর্মীয় শিক্ষার অভাবে এমনটি হচ্ছে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রয়েছে নির্ধারিত আইন। কিন্তু আইনের ফাক গলে সহজেই নির্যাতনকারীরা বেরিয়ে আসে। আইন থাকলেও কখনোবা সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ হয় না। কখনোবা আইনের কঠোরতার অভাবেও নারী নির্যাতনকারীরা নির্যাতন করতে ভয় পায় না। তাই নারী নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং আইনের কঠোরোতা থাকতে হবে। যেন নির্যাতনকারী এই কঠোরতা দেখে ভয়ে নির্যাতনের চিন্তা মাথায়ও আনতে সাহস না করে।
নারী নির্যাতন বন্ধে আইন ছিল,আইন আছে এবং আরও নিত্যনতুন আইন প্রনয়ন হবে। কিন্তু তাতেকি নারী নির্যাতন বন্ধ হবে। এটা স্পষ্ট করে বলা যায় এতেই নারী নির্যাতন বন্ধ হবেনা। শুধু সরকারী উদ্যোগে এবং নারীদের নিজেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিই নারী নির্যাতন রোধে যথেষ্ট নয়। এ জন্য মূলত এগিয়ে আসতে হবে পুরুষকে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধের মিছিলে সবার অগ্রে থাকা চাই পুরুষের। নারী নির্যাতিত হচ্ছে পুরুষের মাধ্যমে আর তাই নারী নির্যাতন রোধে পুরুষই পারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে।
