হয়তো কোনো একটা জিনিস খুব দরকার আপনার। কিন্তু আপনার সামনে বসে থাকা সরকারি বা বেসরকারি অফিসের কর্তাব্যক্তিদের দিনের পর দিন সেটি বুঝিয়ে বলার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আপনি হয়তো পুরো ঘটনাটি দুঃখ ভারাক্রান্ত হূদয়ে মেনে নিতে বাধ্য হবেন। অথবা প্রতিবাদী হয়ে আপনার দাবির কথা জানিয়ে দেবেন সকলকে। তবে এই প্রতিবাদের ভাষা যে স্রেফ অনশন বা অবস্থান ধর্মঘটের চাইতেও কতটা ব্যতিক্রমী আর চাপ সৃষ্টিকারী হতে পারে তার ভালো একটা প্রমাণই সম্প্রতি পেয়েছেন ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম কাউন্সিলের কর্মকর্তারা। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শ্যারন পাওয়ার নামে এক মহিলা দীর্ঘদিন থেকেই তার বাবা-মায়ের জন্য একটি বাড়ি বরাদ্দ চাইছিলেন কাউন্সিলের কাছে। তবে নানাভাবে সমস্যাটির কথা বুঝিয়ে বলার পরও সেটিকে আমলে নিচ্ছিলেন না বার্মিংহাম কাউন্সিলের কর্তাব্যক্তিরা। অবশেষে ঘটনার দিন অনেকটা একরোখা মনোভাব থেকেই অফিসের কর্মীদের জানিয়ে দেন যে আজকের মধ্যে যদি তার এই সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে তিনি কোথাও যাবেন না এবং গ্লু দিয়ে তার হাত অফিসের ডেস্কে আটকে বসে থাকবেন। বলা বাহুল্য, শ্যারনের এই হুমকিকে স্রেফ ঠাট্টা বলেই ধরে নিয়েছিলেন বার্মিংহাম কাউন্সিলের কর্মীরা। আর তাদের এই ভুল ভাঙ্গে যখন তারা দেখতে পান যে শ্যারন সত্যি সত্যিই তার ব্যাগ থেকে একটি গ্লু বের করে হাতের তালুতে সেটি মেখে তার হাত ডেস্কে আটকে দেন। প্রথমটায় পুরো ঘটনায় হতচকিত কর্মীরা ইন্টারনেট খুঁজে এ ধরনের সমস্যায় কীভাবে হাতে আটকে থাকা গ্লু সরাতে হয় তা খুঁজতে থাকেন। তবে এজন্য প্রয়োজনীয় এসিটোন, বাটার বা গরম পানির কোনোটাই তাদের হাতের কাছে না থাকায় প্যারামেডিক্স আর অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পাঠান অফিস ম্যানেজার। আর তাদেরই সহায়তায় পরে উদ্ধার করা হয় দাবি আদায় করতে না পেরে কাঁদতে থাকা শ্যারনকে। এদিকে শ্যারনের এই ঘটনাটি স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে চলে আসায় তার বিষয়টি নিয়ে এখন বেশ চাপের মুখেই আছে স্থানীয় কাউন্সিল অফিস। এমনকি শ্যারনের দাবি কেন বিবেচনা করা হলো না কারও কারও এমন সমালোচনার মুখেও পড়তে হচ্ছে বার্মিংহাম কাউন্সিলকে।
