এ ক্স ক্লু সি ভ কা ন চ ল চ্চি ত্র উ ত্ স ব ২ ০ ১ ৪

কানে এবার হলিউড-বলিউড যুদ্ধ

আপডেট : ১৮ মে ২০১৪, ২১:২৭
এবারের কান চলচ্চিত্র উত্সবে ১৯টি ছবি মূল প্রতিযোগিতায় রয়েছে। আমার দেখা ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে আর্জেন্টাইন পরিচালক দামান জিফ্রনের ‘সাল্ভাজেস’। রাষ্ট্র, সমাজ, পারিবারিক, ব্যক্তি জীবনের ছোটো ছোটো ভুলগুলো বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। খণ্ড খণ্ড গল্পগুলো খুব নান্দনিকভাবে তুলে ধরেছেন নির্মাতা জিফ্রন। যাই হোক, কানের ভিতরে-বাইরে কী ঘটছে তাও আমাকে দেখতে হবে। গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়ার থেকে বের হয়ে দেখলাম আমেরিকান আর্মির বিশাল গাড়ির বহর। হলিউডের ছবির প্রসারে তারা তাদের আর্মির বহর বের করেছে। বুঝলাম, এই দাঙ্গাবাজ জাতি সিনেমার মধ্যেও তাদের শক্তির প্রদর্শনী করছে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর প্রশ্ন জাগল, তাহলে আমাদের প্রতিবেশী ভাইয়েরা (বলিউড) কী করছে? তারা নিশ্চয় হাতির বহর নিয়ে আসেনি! তাদের প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখলাম। সারা বিশ্বের সিনেমা পরিবেশকদের নিয়ে বিশাল পার্টির আয়োজন করেছে ভারত। খানাপিনা, পানীয়ের ফাঁকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তাদের প্রযোজক, পরিবেশক ও নির্মাতাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া বিশ্ব বাজারে তাদের ছবিকে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস ব্যক্ত করছেন। আচমকা ভারতীয় দূতাবাসের একজন আমার হাতে মাইক ধরিয়ে দিল। আমি তাজ্জব! আমি ভারতীয় ছবি নিয়ে কী বলব!? আমি বললাম, ‘আমি বাঙালি, বাংলাদেশের সিনেমা বানাই। ভারতের সিনেমার সাথে যুদ্ধ করেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রির টিকে থাকতে হচ্ছে। সুতরাং ভারতীয় সিনেমার প্রতিযোগী হিসেবেই বলতে পারি, আগামী দিনে ভারত বিশ্ব সিনেমা বাজার দখল করবে। তাদের গত ১০০ বছরের সিনেমা ইতিহাসে ১০ বছর আগেও ভালো ছবির সংখ্যা হাতে গোনা যেত, কিন্তু ১০ বছরে তারা বিশ্বমানের ছবি নির্মাণ করছে।’ কোনোরকম বলে বের হয়ে গেলাম ‘হাউ টু ট্রেইন ইউর ড্রাগন টু’-এর প্রিমিয়ারে। এদিকে বলিউডি নির্মাতারা জোরসে চালাচ্ছেন ডিস্ট্রিবিউটর নিয়ে মিটিং। প্রথম দিকে ঐশ্বরিয়ার কানে আসার সম্ভাবনা না দেখা গেলেও বলিউড নির্মাতারাই একরকম অনুরোধ করে আনছেন অ্যাশকে। কারণ নয়তো মিডিয়া ফোকাস যে শুধু মল্লিকাকে দিয়ে সম্ভব না সেটিও তারা ভালোভাবেই বুঝে গেছেন। তাই ২০ মে রেড কার্পেটে অংশ নেবেন অ্যাশ। তাই বেশ ভালোভাবেই জমেছে হলিউড-বলিউডের এই শোডাউন যুদ্ধ! (চলবে)