কাজী শুভ। সুকণ্ঠের অধিকারী এই শিল্পী নিজের সুর আর গায়কীর ভেতর দিয়েই আলাদা হতে চাইছেন। সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
এখনকার ব্যস্ততার গল্পটা শুনি?
আমার তৃতীয় একক অ্যালবাম নিয়ে ব্যস্ত আছি। তাছাড়া এখন আর তেমন অন্য কোনো কাজে হাত দিচ্ছি না। একক অ্যালবামের গান নির্বাচন ও অ্যারেঞ্জমেন্ট নিয়েই এখন পুরো ব্যস্ত। অ্যালবামের নাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। হয়তো এর আগের অ্যালবামগুলোর সিক্যুয়াল নাম হতে পারে। পাশাপাশি কয়েকজন নতুন শিল্পীর সাথে ডুয়েট গান করছি ও সুর করছি। কয়েকটি ছবিতে কাজ নিয়ে কথা চলছে। কথা ঠিকঠাক থাকলে হয়তো ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাব।
সিডির বিকল্প পদ্ধতির মাধ্যমে কি টিকে থাকা সম্ভব?
বিকল্প পদ্ধতির এখন ব্যবহার শুরু হয়েছে। এটা একটি ইতিবাচক প্রভাব। ওয়েলকাম টিউন বা আই টিউনের মাধ্যমে এখন অনেকেই গান রিলিজ করছেন। তবে এ ব্যাপারে স্বচ্ছতাটা জরুরি। কারণ অনেক কোম্পানি আছে, যারা নিজেরাই শুধু লাভবান হচ্ছে। শিল্পীদের তেমন কোনো লাভ দেখা যায় না। তবে যেহেতু সিডি চলছে না, তাই অন্য পদ্ধতি তো বের করতেই হবে। আমাদের তো টিকে থাকতে হবে।
লাখ টাকা খরচ করে মিউজিক ভিডিও করলেই তো আজকাল শিল্পী হওয়া যায়, নাকি?
অবশ্যই হওয়া যায়। তবে ওরা শিল্পী না। ওরা টাকার মূল্যের ক্যানভাসার গায়ক। টাকা দিয়ে গায়ক হওয়া যায়, শিল্পী না। আর আমাদের দেশের কয়টা চ্যানেল মিউজিক ভিডিও প্রচার করছে! নতুন কিছু চ্যানেল মিউজিকের জন্য খোলা হয়েছে। কিন্তু তাদের তো ইতিবাচক কোনো সাড়া পাচ্ছি না।
নতুন যারা সংগীতকে পেশা হিসেবে নিতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন?
আমার দিক থেকে ‘না’। কারণ টিকে যারা থাকছে তারা জানে সারভাইভ করাটা কত কঠিন। আগে যারা গান করত তাদের একটা গান হিট হলেই তাদের অ্যালবাম বাজারে বিক্রির ঢল নেমে যেত। আর এখন কয়েকটা গান হিট হলে শুধুমাত্র কনসার্টের ডাক পাওয়া যায়। তবে পরিবর্তনের হাওয়া বদলে নতুনদের প্রয়োজন।
আজকাল অনেক শিল্পীর হিট গানও নকল, হিন্দি গানের ছাপ থেকে তারা বের হতে পারে না, এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
গান শুনে ইন্সপায়ার হতে পারে কিন্তু নকল কখনোই কাম্য না। যারা করছে তাদের সচেতন হওয়া জরুরি। এটা যেমন নিজের সৃজনশীলতার জন্য ক্ষতিকর, তেমনি আমাদের সংগীতাঙ্গনের জন্য ঘুন পোকার মতো।
