স্বামী ভারতের হবু প্রধানমন্ত্রী। ভোটের আগে তিনি স্বামীর জন্য উপোস করে পূজা অর্চনা করেছেন। সেই প্রার্থনা পূরণ হয়েছে। এবার ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলে চলে? নরেন্দ্র মোদীর স্ত্রী যশোদাবেন তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন গঙ্গাপূজা দিয়ে। কিন্তু কাক-পক্ষীও টের পায়নি। পুলিশ-প্রশাসনকেও ঘূর্ণাক্ষরে জানতে দেয়া হয়নি কিছু। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোপনে গঙ্গাসাগরে পূজা সেরে চলে গেলেন তিনি। ঘড়িতে তখন শনিবার সকাল ন’টা। ঘাট নম্বর ৮-এ থামল দু’টি গাড়ি। একটি গাড়ি থেকে নেমে এলেন বছর ষাটেকের এক মহিলা। পরনে সাদা সিল্কের শাড়ি। খালি পা। পিছনে সাফারি পরে বিশাল চেহারার দুই নিরাপত্তাকর্মী। সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে ওই মহিলা মুড়িগঙ্গা নদী পার হওয়ার জন্য উঠে পড়লেন নৌকায়। সহযাত্রীরা টেরই পেলেন না হাঁটু মুড়ে বসে থাকা ওই মহিলা আসলে দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্ত্রী যশোদাবেন।
কিন্তু গোপন কথাটি গোপন রইল না। বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেল। পূজা দিতে গিয়ে কপিলমুনি আশ্রমের সাধু সাল্লগিরিকে যশোদাবেন বলেন, আমার স্বামীকে আশীর্বাদ করুন। রীতি মেনেই নির্লিপ্ত মুখে ওই সাধু স্বামীর নাম জানতে চান। মহিলার সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘মোদীজি’। সাধুদের চক্ষু তখন চড়কগাছ। ঘোর কাটতে সময় লাগল বেশ কিছুক্ষণ। মোদীর স্ত্রীর গঙ্গাসাগরে পূজা দিতে আসার খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। ভিড় জমে যায় আশ্রমে। তড়িঘড়ি ছুটে আসেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। ‘ম্যাডামকে’ যদি একনজর দেখা যায়। তারা মোদী-জায়াকে ঘিরে ধরেন। নরেন্দ্র মোদী না হোক, তার পত্নিকে হাতের নাগালে পাওয়াও কী চাট্টিখানি কথা! কিন্তু সহজ-সরল জীবনে অভ্যস্ত যশোদাবেন মিতভাষী। এলাকার বিজেপি নেতাদের সঙ্গে দু’একটি কথা বলেই গাড়িতে উঠে পড়েন তিনি। গুজরাটের মেহসানা জেলার বাসিন্দা যশোদাবেন স্বামীর মঙ্গল কামনায় ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই জুতো পরা ছেড়ে দিয়েছিলেন। সাবেক এই স্কুল শিক্ষিকা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, স্বামী প্রধানমন্ত্রী না হওয়া পর্যন্ত তপস্যা চালিয়ে যান। ইদানীং তিনি দক্ষিণ ভারতের একটি আশ্রমের অতিথিশালায় থাকেন বলে তার ঘনিষ্ঠদের দাবি।
