নূর হোসেনের দুই সহযোগীকে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ

আপডেট : ১৮ মে ২০১৪, ২৩:০৮
নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাত হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি নুর হোসেনের দুই সহযোগীকে গতকাল রাতে জনতা গনধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এদিকে দুই বিএনপি নেতাকে গুম করার অভিযোগে তাদের স্বজনরা তারেক সাইদসহ র্যাবের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জ চার নম্বর ওয়ার্ডের আটি এলাকায় নুর হোসেনের দুই সহযোগীকে গনধোলাই দেয়ার ঘটনা ঘটে। নুর হোসেন এই চার নম্বর ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলর। তার দুই সহযোগী হলো, শিপন (৩০) ও আতিক (৩৫)। ওই দুই সহযোগীকে দেখার পর ধরে ফেলেন এলাকাবাসী। পরে তাদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ইত্তেফাককে বলেন, শিপন রুপগঞ্জ উপজেলার পেশাদার সন্ত্রাসী ও কিলার। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। আতিক এক ভয়ংকর সন্ত্রাসী। তারা নুর হোসেনের অপরাধ জগতের নারী ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত। জুয়া ও নারী ব্যবসা এক সঙ্গে নুর হোসেনের ‘জলসাঘর’ নামক প্রমোদকেন্দ্রে চলত। প্রতিরাতে জুয়া ও নারী ব্যবসা থেকে নুর হোসেন মোটা অংকের টাকা আয় করত। পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণীর কর্মকর্তা নুর হোসেনের জলসাঘরে নিয়মিত যাতায়ত করতেন। নুর হোসেনের অপরাধ জগতের কর্মকান্ড প্রকাশ্যে প্রশাসনের নাকের ডগায় করার ক্ষেত্রে এই নারী ব্যবসা সহায়ক ভূমিকা পালন করত। গতরাত একটায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি জানান, নুর হোসেনের দুই সহযোগী শিপন ও আতিককে জনতার সহায়তায় আটক করা হয়েছে। তাদের জিঞ্জাসাবাদ করা হচ্ছে। পাঁচ র্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাত খুনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব) তারেক সাঈদ ও বাহিনীর চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার কুমিল্লায় মামলা হয়েছে। লাকসাম পৌর বিএনপি সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ এবং সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হিরুকে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী হুমায়ুন কবির পারভেজের বাবা আলহাজ্ব রঙ্গু মিয়া। মামলার অপর চার আসামিরা হলেন র্যাব-১১ কুমিল্লা শাকতলাস্থ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাহেদ রাজী, ডিএডি শাহজাহান আলী, এসআই কাজী সুলতান আহমেদ ও অসিত কুমার রায়। গতকাল দুপুরে দায়ের করা মামলাটি আমলে নিয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা নার্গিস তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য লাকসাম থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি চাকরিরত র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আইনানুগ পূর্বানুমতি নেয়ার জন্যও তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। মামলাটি দায়ের করা হয় দণ্ডবিধির ৩৪, ৩২৩, ৩৬৪, ৩৮০, ৪৪৭ ও ৪৪৮ ধারায়। মামলা দায়েরের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম হিরুর বোন সেলিনা আক্তার, মেয়ে মাশরুফা ইসলাম, হুমায়ুন কবির পারভেজের স্ত্রী শাহানাজ আক্তারসহ তাদের স্বজনরা। মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর রাত ৯টায় লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরুর মালিকানাধীন দৌলতগঞ্জের বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিলে প্রবেশ করে অভিযুক্ত র্যাব সদস্যরা টেবিল থেকে ১৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার পরে লাকসাম বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরু, হুমায়ুন কবির পারভেজ ও ১নং সাক্ষী বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন অ্যাম্বুলেন্সযোগে কুমিল্লা যাওয়ার পথে র্যাব তাদের আটক করে। জসিম উদ্দিনকে লাকসাম থানায় হস্তান্তর করা হলেও এখন পর্যন্ত সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মামলার ব্যাপারে কুমিল্লার শাকতলাস্থ র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাহেদ রাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শুনেছি মামলা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে চাই না। লাকসাম থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজের নিখোঁজ হবার ঘটনায় গত বছরের ১ ডিসেম্বর একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় (নং-২৩)। ঘটনার তদন্ত চলছে। কিন্তু নতুন কোন তথ্য নেই। এর আগে গত ৮ মে দুপুরে লাকসামে নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন হুমায়ুনের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার। ঐ সংবাদ সম্মেলনের টানানো ব্যানারে লেখা ছিল ‘র্যাব-১১-এর সিও সদ্য চাকরিচ্যুত তারেক সাঈদের নেতৃত্বে হিরু ও হুমায়ুনকে গুম করা হয়েছে।’ ঐ সম্মেলনে শাহনাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, লে. কর্নেল তারেক সাঈদ তার স্বামী হুমায়ুন পারভেজ ও বিএনপির নেতা সাইফুলকে গুম করেছেন। এ ঘটনার পর তিনি র্যাবের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা আমলে নেয়নি। এ অবস্থায় থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি জিডি করেন। তবে শাহনাজের অভিযোগ পুলিশ জিডির তদন্তের ব্যাপারে কোন রকম আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাই তিনি আবারো র্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ভাবছেন।