পঞ্চম দিনের মত গতকাল রবিবারও অচল ছিল জেলার হাকিপুরের হিলি স্থলবন্দর। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জয়পুরহাট-৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুর রাজ্জাক তরফদারের অপসারণসহ ৩ দফা দাবিতে বিক্ষোভের পাশাপাশি গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। অবরোধ চলাকালে স্থানীয় চারমাথা মোড়ে আয়োজিত সমাবেশ থেকে আজ সোমবার হিলি স্থলবন্দরসহ হাকিমপুর উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করা হয়েছে।
এদিকে ৫ দিনের অব্যাহত আন্দোলনের কারণে সরকার ৫ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে হিলি স্থলবন্দর কাস্টমস অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান চৌধুরী জানান। অপরদিকে ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের কারণে হিলি স্থলবন্দরের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এ কারণে হিলি পানামা পোর্টের ভেতরে শতাধিক পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক আটকা পড়েছে এবং বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতীয় সীমানায় আটকা রয়েছে দেড় হাজার পণ্য বোঝাই ট্রাক। এর ফলে পচনশীল পণ্য গরমের কারণে ইতিমধ্যেই পচতে শুরু করেছে বলে দাবি করেন ইন্ডিয়া হিলি এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক মণ্ডল।
হিলি স্থলবন্দর সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কাসেম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন বলেন, ৩ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জয়পুরহাট-৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুর রাজ্জাক তরফদার বলেন, ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে। বিজিবি যা করছে—এর সবটাই নিয়ম-নীতির মধ্যেই করছে। এদিকে আন্দোলনরত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।
